আব্দুল হাই মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহ জীবনী Abdul Hi Muhammad Saifullah

আব্দুল হাই মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহ বর্তমান সময়ের একজন আলোচিত ইসলামিক ব্যাক্তিত্ব। তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত একজন মেধাবী ছাত্র। তিনি তিন বার তেলাওয়াতুল কোরআন প্রতিযোগীতায় স্বর্ণপদক পেয়েছেন। এছাড়া  বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির বিতর্ক প্রতিযোগীদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগী হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

মেধাবী এই ইসলামিক আলোচক বাংলাদেশের সকল স্থরের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তার সুন্দর সাবলীল আলোচনায় হাজার হাজার মানুষ ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জন করে প্রকৃতভাবে ইসলাম পানল করছে। তিনি তরুণদের আইডল, সুশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ বক্তা ও ইসলামিক স্কলার। তিনি খ্যাতিনামা ইসলামিক স্কলার মরহুম খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ এর সুযোগ্য ছাত্র।

 

জন্ম: আব্দুল হাই মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহ ১৯৮৮ সালের ১লা মার্চ নওগা জেলার প্রানকেন্দ্র উকিলপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস নওগা সদরে উকিলপাড়া গ্রামে। তার বাবা একজন মাদরাসার শিক্ষক। তিনি নওগাঁ নামাজগড় গাউসুল আজম কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস। তার মাতা উম্মে মাহবুবা একজন গৃহিণী।

শিক্ষাজীবন: তিনি পিতার প্রতিষ্ঠান নওগাঁ নামাজগড় গাউসুল আজম কামিল মাদ্রাসায় শিশু শ্রেণি থেকে লেখাপড়া শুরু করেন। দাখিল (এস এস সি) তে জি পি এ ৪.৫০ পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০০২ সালে উত্তির্ণ হন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে আলিম (এইচ এস সি) জি পি এ ৪.৪২ পেয়ে মানবিক বিভাগ থেকে উত্তির্ন হন ২০০৪ সালে। তারপর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য নিজ জেলা ত্যাগ করে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়াতে আল হাদিস ও ইসলামিক স্ট্যাডিস বিভাগে ভর্তি হন। ৪ বছরের অনার্সে তিনি  ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন এবং প্রথম স্থান অধিকার করায় বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শ্রেষ্ট ছাত্র স্বর্ণপদক গ্রহন করেন। এরপর তিনি তুলনামূলক ধর্মের উপর এমফিল ডিগ্রী অর্জন করেন। এছাড়া এই গুনি আলোচক বাংলা, ইংরেজী আরবী ও উর্দু চারটি ভাষায় খুবই দক্ষ।

দাম্পত্য জীবন: তাঁর স্ত্রী রাশনা রাশেদ মৌরি এবং তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

 

তরুণদের আইডল: ইসলাম ধর্মের অনুশাসন মেনে চলেও নিজেকে স্মার্টভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা আব্দুল হাই মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহকে দেখলেই বোঝা যায়। তাই এ সময়ের যুবকরা তাকে খুবই পছন্দ করে। তার তাফসির মাহফিলে যুবকদের স্রোত দেখা যায়। তিনিও যুবকদের খুবই পছন্দ করেন। তাফসির মাহফিলে যুবকদের ভালো পথে চলার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয়তা: খুব অল্প সময়ে সুললিত কণ্ঠে কুরআন-হাদিসের সহজ-সাবলীল আলোচনা করে অসংখ্য মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তার গবেষণাধর্মী আলোচনার কারণে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

কর্মজীবন:

খতিব: মাসজিদুল জুমা কমপ্লেক্স, পোলবি, মিরপুর ১২,ঢাকা, বাংলাদেশ।
## হজ গাইড: আজাদ এয়ার সংযোগ (হজ লাইসেন্স 1317, বাংলাদেশ)
## প্রাক্তন চেয়ারম্যান: আল-হাদীস ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জে.জি.এম বিশ্ববিদ্যালয় মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
## সহকারী পরিচালক (প্রোগ্রাম ও গবেষণা) কুরআন শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সাভার, ঢাকা।

বই প্রকাশঃ তিনি একটি বই প্রকাশ করেছেন- উলুমুল কোরআন।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে তার একটি ফেসবুক আইডি ও একটি অফিসিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ রয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো ইউটিউব চ্যানেল নেই। মাসিক আয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাফসির মাহফিলে তিনি চুক্তিবদ্ধ হন না।  হাদিয়া হিসেবে যা পান তা-ই নিয়ে থাকেন।