দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জীবনী Allama Delwar Hossain Saidi
আল্লামা সাঈদী সাহেবের সংকিপ্ত জীবনী এবং আল্লামা উপাধির ইতিহাসঃ
১:→জন্মঃ ১৯৪০ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি ৭ই রমজান বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলার সাইদখালী গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। পিতার নামঃ ইউসুফ সাঈদী যিনি একজন সুনামধন্য ইসলামী পণ্ডিত বা আলেম ছিলেন।
মায়ের নামঃ গুলনাহার সাঈদী। আল্লামা সাইদীর সন্তানঃ চার ছেলে- মরহুম রফিক সাইদী,শামীম সাইদী, মাসুদ সাইদী ও নাসিম সাইদী।
২:→ শিক্ষাজীবনঃ পিতার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করেন। পরেতিনি খুলনা আলিয়া মাদ্রাসায় কিছুদিন এবং পরে ১৯৬২ সালে ছারছিনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করেন।
কামিল পাশ করার পর বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম, দর্শন , বিজ্ঞান ,রাজনীতি, অর্থনীতি,পররাষ্ট্রনীতি, মনোবিজ্ঞান ওবিভিন্ন তত্তের উপর দীর্ঘ ৫ বছর অধ্যায়ন করেন।
৩:→দায়ী ঈলাল্লাহঃ ১৯৬৭ সাল থেকে তিনি নিজেকে “দায়িইলাল্লাহ” হিসেবে আত্মনিয়োগ করেন। মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইদী পৃথিবীর অর্ধশতেরও বেশি দেশে আমন্ত্রিত হয়ে ইসলামের সু-মহান আদর্শ মহাগ্রন্হ পবিত্র কুরআনের বাণী মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন। দেশে তাঁর ৫০ বছরের ইসলাম প্রচারের নমুনা দেখুন সংক্ষেপে :—
(ক) চট্টগ্রাম প্যারেড গ্রাউন্ড ময়দানে প্রতি বছর ৫ দিন করে টানা ২৯ বছর।
পবিত্র কাবা শরীফের সম্মানিত ইমাম এ’মাহফিলে দু’বার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
(খ) খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দান সহ শহরের বিভিন্ন মাঠে প্রতি বছর ২দিন করে ৩৮ বছর।
(গ) সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রতি বছর ৩ দিন করে টানা ৩৭ বছর।
(ঘ) রাজশাহী সরকারী মাদ্রাসা মাঠে প্রতি বছর ৩ দিন করে একটানা ৩৫ বছর।
(ঙ) বগুড়া শহরে প্রতি বছর ২ দিন করে একটানা ২৫ বছর।
(চ) ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে ময়দানও পল্টন ময়দানে প্রতি বছর ৩ দিনকরে একটানা ৩৪ বছর।
৪:→রাজনৈতিক জীবনঃ ১৯৭৯সালে জামায়াতের সাধারণ সমর্থক হিসেবে যোগদান করেন।১৯৮৯ সালে জামায়াতের মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। সর্বশেষ বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীরের দ্বায়িত্ব পালন করছেন।
৫:→আন্তর্জাতিক অঙ্গনেঃ (ক) ১৯৭৩সাল থেকে সৌদির বাদশাহের আমন্ত্রনে রাজকীয় মেহমান হিসেবে তিনি হজ্জব্রত পালনকরে আসছেন। ১৯৯০ সাল থেকে২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর রমজান মাস মক্কা-মদীনায় থাকা রুটিন হয়ে গিয়েছিল তাঁর। তিনি সৌদি বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ ও ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ এর আমন্ত্রনে ৬ বার রাজকীয় মেহমান হিসেবে হজ্জ পালন করেন। গ্রেফতার হওয়ার আগের বছর ২০০৯ সালেও তিনি সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের আমন্ত্রনে রাজকীয় মেহমান হিসেবে হজ্জ পালন করেছেন।
(খ) আল্লামা সাঈদী সৌদি বাদশাহর রাজকীয় মেহমান হিসেবে মোট ৬ বার, রাবেতা আলম আল ইসলামীর আমন্ত্রনে রাজকীয় মেহমান হিসাবে ৮ বারসহ অসংখ্য বার হজ্জ পালন করেছেন এবং ৯০ দশক থেকে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতার হওয়ার আগমূহুর্ত পর্যন্ত একটানা ১৮ বছর ধরে তিনি প্রত্যেক রামাদান মাসেই পবিত্র হারাম শরীফে ইতেকাফ পালন করেছেন। নামাজের জন্য ইমাম সাহেবের পেছনেই দাঁড়াতেন তিনি। বলা যায় তাঁর জন্য নামাজের জায়গাটি তারা নির্ধারণ করেই রেখেছিল। প্রতি বছর একই জায়গায় নামাজ ও ইতিকাফ পালন করেছেন তিনি।
(গ) ১৯৮২ সালে ইমাম খমিনির আমন্ত্রনে ইরানের প্রথম বিপ্লব বার্ষিকী উজ্জাপন উপলক্ষে তিনি তেহরান সফর করেন। ১৯৯১সালে সৌদি বাদশার আমন্ত্রনে কুয়েত – ইরাক যুদ্ধের মিমাংসা বৈঠকে তিনি যোগদান করেন।
১৯৯১ সালে ইসলামী সারকেল অফ নর্থ অ্যামেরিকা তাকে”#আল্লামা” খেতাবে ভূষিত করেন।
(ঘ) ১৯৯৩ সালে নিউইয়ার্কে জাতিসঙ্ঘের সামনে অ্যামেরিকান মুসলিম ডেপ্যারেড সম্মেলনে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইদিকে”#গ্র্যান্ড_মার্শাল“পদক দেয়া হয়। দুবাই সরকারের আমন্ত্রনে ২০০০ সালের ৮ই ডিসেম্বর আরব আমিরাতে ৫০,০০০ হাজারেরও বেশী শ্রোতার সামনে তিনি কোরআনের তাফসির পেশ করেন।
(ঙ) লন্ডন মুসলিম সেন্টারের উদ্ভোধনি অনুষ্ঠানে কাবা শরিফের সম্মানিত ইমাম “শায়েখ আব্দুর রাহমান আস্ সুদাইসির” সাথে মাওলানা সাঈদিও আমন্ত্রিত হন।
৬:→মাওলানা সাঈদীর হাতে-হাত রেখে সহস্রাধিক অমুসলিম ইসলামের সুমহান আদর্শের পতাকা তলে আশ্রয় নেন!!!
৭→এ পর্যন্ত গবেষণাধর্মী সর্বমোট ৭৫টি গ্রন্হ লিখেছেন আল্লামা সাঈদী।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একজন বাংলাদেশী ইসলামী পণ্ডিত, বক্তা এবং রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য; যাকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসাবে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে সাহায্য করার বানোয়াট অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে-আমির বা ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২০১১ সালে সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার বিরূদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটতরাজ ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০ দফা বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০টি অভিযোগের মধ্যে প্রদত্ত বিচারের রায়ে আটটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং দু’টি অভিযোগে তাকে রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্য হাসিলের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। তার ফাঁসির রায় ঘোষণা হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ ও প্রতিবাদ করে। এই প্রতিবাদে সরকার পক্ষ ভোটার বিহিন সরকার শেখ হাসিনা কর্তৃক পুলিশ ও ছাত্রলীগের লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে ৭০০ এর অধিক নিরিহ মানুষকে শহীদ করা হয়।  এই রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিলের রায় পর্যবেক্ষণ করে  ও জনরোসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির সাজা কমিয়ে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদন্ড প্রদান করে।

প্রারম্ভিক জীবন

আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ইউসুফ শিকদার গ্রামের খুব সাধারণ এক গৃহস্থ ছিলেন। ছোটবেলায় তিনি স্থানীয় লোকদের কাছে খুব নম্র ও ধার্মীক পিতার ধার্মীক সন্তান  হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তার প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় পিরোজপুরের একটি মাদ্রাসায়।

তিনি ১৯৬২ সালে ছারছিনা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং ফাজিল পাশ করেন ও পরবর্তিতে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা্ থেকে কামিল পাশ করেন। ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের পর সাঈদী স্থানীয় গ্রামে ব্যবসা শুরু করেন এবং পাশাপাশি দ্বীনের দাওয়াত প্রচার শুরু করেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে সারা দেশের মানুষের কাছে ইসলামিক আলোচক হিসাবে বেশ সুনাম অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ৩০ বছর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিচারে তাকে ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে মানবাতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার বানোয়াট অভিযোগে অভিযুক্ত করে। যাইহোক, তার পুত্র মাসঊদ সাঈদীর মতে তিনি ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে ছিলেন না এবং ১৯৬৯ সাল থেকে তিনি যশোরে বসবাস করছিলেন।

সাঈদী বাংলা, উর্দু, আরবি ও পাঞ্জাবি ভাষায় দক্ষ এবং ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায়ও তার দক্ষতা রয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) স্বাধীনতা-যুদ্ধ শুরু হয়। ২৫শে মার্চ, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে হাজার হাজার নিরীহ বাংলাদেশীকে সেই রাতে হত্যা করে যা ইতিহাসে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা পায়।  আওয়ামী সরকার ইসলাম প্রচার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক ভাবে ঘায়েল করার জন্য এই গনহত্যায় “দেইল্যা রাজাকার” এর পরিবর্তে আল্লামা সাঈদীর ঘাড়ে গনহত্যার অভিযোগ আনে। যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ও ন্যাকারজনক ঘটনা।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৮০’র দশকের প্রথমদিকে সাঈদী সাড়াদেশব্যাপী ইসলামী ওয়াজ-মাহফিল ও তাফসির করা শুরু করেন এবং তার সুন্দর বক্তব্য দানের ক্ষমতার জন্য দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন; এ সময়ই তিনি রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনী জোট গঠন করে এবং তিনি এই নির্বাচনে পুনরায় জাতীয় সংসদ-এর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ইসলাম প্রচারে ভূমিকা

আল্লামা দেলওয়ার হুসাইন সাঈদী বাংলাদেশ সহ সারা পৃথিবীতে একজন নন্দিত আলেম হিসাবে স্বীকৃতি পান। পৃথিবীর প্রায় ৫২ টা রাষ্ট্রে তিনি ইসলামী দাওয়াত পৌছে দেওয়ার জন্য ভ্রমন করেন। তার আলোচনা ও ইসলামকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনায় হাজার হাজার মানুষ তার হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

গ্রেফতার

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবনের প্রথম গ্রেফতার এবং প্রথম কারাজীবনের কিছু মজার ঘটনাঃ
==============================
১৯৭৩ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশে যোগদান করেন আল্লামা সাঈদী। সেই অপরাধে ১৯৭৫ সালে খুলনাতে তিনি গ্রেফতার হন। ২৯জুলাই একটি মাহফিল শেষে বাড়ি ফিরতেছিলেন আল্লামা সাঈদী, এমন সময় কয়েকজন সাদা পোশাকধারী লোক তাঁকে বললেন,থানায় ডিআইএ-১বসে আছেন। আপনার সঙ্গে কথা বলতে চায়! আল্লামা প্রথমে বুঝতে পারেন নি তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাই তিনি বললেন, ডিআইএ কে আমার বাসায় আসতে বলুন। তাদের একজন বললেন অনুগ্রহ করে থানায় চলুন।হুজুর থানায় গিয়ে জানলেন, তাঁকে উপরের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানা নির্বাহী কর্মকর্তা তার নিজ বাসা থেকে বিছানা পত্র এনে হুজুরের শোবার ব্যবস্থা করে দিলেন। দুদিন সেই হাজতেই হুজুরকে থাকতে হয়! সবচেয়ে মজার বিষয়, এই দুইদিন আল্লামা সাঈদী কোন ধরনের পুলিশ পাহারা ছাড়াই থানার পাশের মসজিদে গিয়ে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তেন। নামায শেষে তিনি নিজেই হাজতে প্রবেশ করতেন।
:
দুইদিন পর, এক হাবিলদারের নেতৃত্বে ৫জন পুলিশ প্রহরায় হুজুরকে ঢাকায় পাঠানো হয়! কোন হাজতীকে কোর্টে চালান দেবার সময় নিয়ম হলো,হাতে হাত কড়া পরানো। কিন্তু হুজুরের হাতে কেউহাত কড়া পরানোর সাহস করছিলেন না। হাবিলদার বলল, আমার চাকরি গেলে যাবে আপত্তি নাই কিন্তু হুজুরের হাতে হাত কড়া পরাতে পারবো না।
তারপর খুলনা থেকে ট্রেনে করে ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করলেন, ৫জন পুলিশ প্রহরায় আল্লামা সাঈদী। এখানেও একটি মজার ঘটনা, সারারাত ৫পুলিশ ঘুমে অচেতন ছিল। আর তাদের রাইফেল গুলো পাহারা দেন, স্বয়ং আল্লামা সাঈদী। তারপর হুজুরকে রাজারবাগ সিআইডি অফিসে নেয়া হয়! সেখানে রেখে আসার সময়,ঐ হাবিলদার হুজুরের হাতে ২০টাকা দেন।বলেন,আপনার কাজে লাগতে পারে, তার আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে টাকাটি হুজুর গ্রহন করেছিলেন। ৩দিন পর, হুজুরকে কোর্টে তোলা হয় এবং কারাগারে চালান দেয়া হয়। কারাগারে যাবার পর তাঁকে ডিভিশন দেয়া হয়। কিন্তু তার আগে জেলার এসে, হুজুরকে অনুরোধ করলেন কয়েদীদের উদ্দেশ্যে একটি বক্তব্য দিতে।কথায় আছে,”ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও বাড়া বানে”। তারপর প্রায় চারশত কয়েদির সামনে আল্লাহপাকের কালাম থেকে বক্তব্য প্রদান করেন আল্লামা সাঈদী। বিকেলে আল্লামাকে নেয়া হলো ৯ নম্বর সেলের ১০নম্বর কক্ষে। তাঁকে বলা হলো,এই রুমেই জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওঃ আবুল কালাম মোঃ ইউসুফ ২২মাস বন্ধী ছিলেন। তিনি মনে মনে খুশি হলেন,এই রুমে আমার ওস্তাদ ছিলেন। কারাগারে সঙ্গী হিসেবে ৩৫জনকে পেয়েছিলেন আল্লামা।তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন জাসদের, কেউ মুসলিম লীগের,কিংবা কেউ ছিলেন সিরাজ সিকদারের দলের লোক।তাদের মধ্যে মাত্র ৩জন নামায পড়তেন। তাদের কে নিয়মিত কোরআনে তেলওয়াত করে শুনাতেন,হাদীস বর্ননা করতেন কখনো ইসলামী জলসা করতেন আল্লামা।
আর এই কারনে তাদের মধ্য বেশির ভাগ-ই নামাযী হয়ে যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫আগষ্ট জালিম মুক্ত হয় বাংলাদেশ।
আর তার কিছুদিন পরে মুক্তিপান আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী।

 

ইতিহাসের পাতায় আল্লামা সাঈদী

কুসুমাস্তীর্ণ পথে পুষ্প শয্যায় জীবন অতিবাহিত করলে আল কুরআনের রাজ পাওয়া যায় না ৷ কুরআনের রাজ লাভ করতে হলে শহীদী ঈদগাহে বুকের তপ্ত শোণিত ধারা ঢেলে দিতে হয়- রক্তের আলপনায় ইসলামের বিজয় প্রতীক এঁকে দিতে হয় ৷ আল্লামা সাঈদী সেই ব্যক্তি, যিনি ইসলামের পতাকা বাংলার আকাশে উড্ডীন করার জন্য কুসুমাস্তীর্ণ পথে পা না বাড়িয়ে কন্টকাকীর্ণ পথে পা দিয়েছেন ৷ তিনি যদি কন্টকাকীর্ণ পথে পা না বাড়িয়ে কুসুমাস্তীর্ণ পথ ধরে পীর- মুরিদী শুরু করতেন, তাহলে তাঁর পায়ের কাছে যে অর্থের স্তুপ জমা হত, তা বহন করতে ট্রাকের প্রয়োজন হতো এবং তিনিই হতেন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বা বাংলাদেশের গ্রান্ড মুফতী ৷ কিন্তু দুনিয়ার কোন লোভ তাঁকে গ্রাস করতে পারেনি ৷ তাঁর একমাত্রই লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে কুরআনের রাজ কায়েম করা ৷ আর সেই কাজ করতে গিয়ে তাঁকে জীবনে অসংখ্যবার হতে হয়েছে মৃত্যুর মুখোমুখি ৷ আজও তিনি রয়েছেন ফাঁসীর দোয়ারে ৷
“””””””””””””””””””””‘”‘””””””””””””””””””””
আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী আমাদের প্রেরণা ৷ তাঁর মত বিশাল ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়ন করে কোন কিছু লেখার সামান্যতম যোগ্যতাও আমার নেই ৷ তারপরও বন্ধুদের জোর দাবিতে তাঁর বিশাল কর্মময় জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যা তাঁর জীবনী গ্রন্থ থেকে জানতে পেরেছি এবং বিভিন্ন মাহফিলে তাঁর মুখ থেকে যা শুনেছি ও জাতীয় জীবনে তার প্রভাব সম্পর্কে যা অনুভব করেছি, তা থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা আপনাদের কাছে তুলি ধরছি
:
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সাঈদী নামক ফুলের সুগন্ধি শুধু আমাদেরকে নয়, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে শাহাদাতের সৌরভে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মাতোয়ারা করে তুলবে ইনশাল্লাহ ৷

সাঈদীর জন্ম ও শিক্ষাদীক্ষা

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি এই বিশাল বিস্তীর্ণ পৃথিবী একটি সুবাসিত পুষ্প কানন বিশেষ ৷ পুষ্পের এ কাননে কত না হাজার ফুল প্রতিদিন ফোটে ৷ কিন্তু সব ফুল মানুষকে ঘ্রাণ দান করতে পারেনা ৷ অধিকাংশ ফুল অনাদর আর অবহেলায় ঝরে যায় ৷ কিন্তু এমন কতকগুলো বিরল ফুল এ পৃথিবীতে ফুটেছে, যার ফোটার অপেক্ষায় এ পৃথিবীর প্রতিটি অনু-পরমাণু শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অপেক্ষা করছে ৷ অবশেষে প্রতিক্ষার প্রহর অতিবাহিত হয়ে কাংখিত ফুল ফুটেছে, পৃথিবী নামক পুষ্প কানন সুবাসিত হয়েছে ৷ এই কাংখিত ফুলগুলো ছিলেন মহান আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুলগণ ৷ আর সেই জান্নাতী ফুলগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হযরত মুহাম্মাদ সাঃ৷ তিনি যে আদর্শ প্রচার করে গেছেন, তা কোন কালের গন্ডীতে সীমাবদ্ধ নয় ৷ তাঁর আদর্শের সৌরভে পৃথিবীকে আমোদিত করার লক্ষ্যে মুসলিম মিল্লাতের এই বাগানে কিছু ফুল প্রতিটি যুগেই ফুটেছে, বর্তমানেও ফুটছে আগামীতেও ফুটবে ৷
সেই বিরল ফুলগুলোর অন্যতম হচ্ছেন আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী ৷
সেই মা কতইনা সৌভাগ্যবতী, যিনি সাঈদী নামক এই ফুলকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন ৷ মহাসত্যের শত্রুদের হ্নদকম্পন জাগবে যাঁর বলিষ্ঠ কন্ঠে – সেই মনীষী পৃথিবীতে এলেন পবিত্র রমজান মাসে ৷
সেদিন ছিল ১৯৪০ সনের ০২ই ফেব্রুয়ারি ৷ বরকতে পরিপূর্ণ সেই পবিত্র রমজান মাসের ৭ তারিখ-বৃহস্পতিবার ৷ শিশুর সৌভাগ্যবান জনক আর সৌভাগ্যবতী জননীও তখন জানতেন না, এই শিশু শুধু তাদের কোলই আলোকিত করতে এ ধরাধামে আগমন করেনি-কালক্রমে এই শিশু বয়স সন্ধিক্ষণে মুসলিম জাতির দুর্দিনে কান্ডারী হিসেবে গোটা মুসলিম জগৎ আলোকিত করবে ৷
জন্মের পর শিশুর নাম দেওয়া হয় দেলওয়ার ৷ ‘দেলওয়ার ফার্সী শব্দ, যার অর্থ যুদ্ধে বিজয়ী বীর ৷ কালের বিবর্তনে বর্তমানের ‘দেলওয়ার ‘ আল্লাহর কুরআনের লড়াকু সৈনিক- ইসলামের বীর যুদ্ধা ৷
পরিপূর্ণ নাম’দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী’ যে নাম শুনলে কুরআনের প্রেমিকদের হ্নদয়ে এক জান্নাতী আবেশের সৃষ্টি হয় ৷ গভীর শ্রদ্ধায় পরম মমতায় কন্ঠ হতে নির্গত হয় সে নামটি ৷
জ্ঞানার্জনের জগতে শিশু সাঈদী প্রবেশ করলেন ৷ তিনি যেন জ্ঞানের কুঞ্জবনে বিচরণশীল এক মধুমক্ষিকা ৷ মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জিত হবার পর তিনি একটানা পাঁচ বছর ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, মনোবিজ্ঞান সহ বিভিন্ন মতাদর্শ ও ভাষার উপর বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা করে ১৯৬৭ সালে তাঁর গৌরবময় কর্ম জীবনে পদার্পণ করেন ৷ তাঁর কর্মের ময়দান কুসুমাস্তীর্ণ নয়- কন্টকাকীর্ণ এই ময়দান ৷ ফুল বিছানা পরিত্যাগ করে শাহাদতের উত্তপ্ত ময়দানে পা রাখেন ৷
ডঃ আল্লামা ইকবালের ভাষায়, মুসলমান হবার অর্থই হল শাহাদতের উত্তপ্ত ময়দানে পা রাখা, আর মানুষ মনে করে যে, মুসলমান হওয়া এত সহজ ৷

-পিতার ইন্তেকালে আল্লামা সাঈদী

“””””””””””””””””””””””'”””””””””””””””
সেদিন ছিল ১৯৮৬ সনের ৬ই ফেব্রুয়ারি ৷ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ৷ রাজধানী ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র শিবির এক সেমিনারের আয়োজন করে ৷ আল্লামা সাঈদী সেই সেমিনারের প্রধান অথিতি ৷ এই সময় তাঁর কাছে পৌছে ভয়াবহ শোকের সংবাদ- তাঁর প্রিয় জনক আর নেই ৷
স্নেহদাতা পিতার ইন্তেকালের মুহুর্তে তিনি তাঁর পাশে থাকতে পারেন নি ৷ তাঁর পিতার ইন্তেকাল পূর্ব অবস্থার কথা তাঁর স্নেহময়ী মাতা এভাবে বর্ণনা করেছেনে, ‘ আমার সন্তানের পিতা প্রবল জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন ৷ কখনো কখনো জ্ঞানহারা হয়ে যেতেন ৷ জ্ঞান ফিরে আসতেই দেলওয়ার এসেছে কিনা জানতে চাইতেন ৷ ইন্তেকালের পূর্বে মুমিনের মৃত্যুর সকল চিহ্ন তাঁর চেহারায় ফুটে উঠলো ৷ আমি লক্ষ্য করলাম, দেলওয়ার বাইর থেকে বাড়িতে এলে ওকে দেখে তাঁর মুখে যেমন স্নিগ্ধ হাসি ফুটে উঠতো, ইন্তেকালের পূর্ব মুহুর্তেও তাঁর মুখে ঠিক সেই হাসিই ফুটে উঠলো এবং তিনি এমনভাবে তাকালেন যে, মনে হচ্ছে যেন তিনি দেলওয়ারকে দেখছেন ৷ এরপর তিনি শূন্যে হাত বাড়িয়ে দিলেন ৷ মনে হলো যেন তিনি দেলওয়ারের হাত যেভাবে ধরতেন, ঠিক সেভাবেই কিছু একটা ধরলেন এবং বুকের ওপর রাখলেন৷ আমি তাকিয়ে রয়েছি তার মুখের দিকে, তিনি হাসছেন ৷ এ অবস্থায় তিনি চোখ বন্ধ করলেন ৷ আমি দেখলাম তার কপাল ঘেমে গেলো ৷ তারপর অনুভব করলাম, দেলওয়ারের আব্বা আর নেই ৷’
আল্লামা সাঈদী বলেন, ‘ সংবাদ পেয়ে আমি যখন পিরোজপুর বাড়িতে পৌছে আব্বাকে দেখলাম, তখন আমার কাছে মনে হলো আমি যেন জীবিত ঘুমন্ত আব্বাকে দেখছি ৷ মুখে ফুটে রয়েছে মধুর হাসি ৷ আব্বার শরীরে হাত দিয়ে দেখলাম, তখনও তাঁর শরীরে জীবিত মানুষের মতই উষ্ণ রয়েছে এবং কবরে নামানো পর্যন্ত তাঁর শরীর উষ্ণই ছিল ৷
আল্লাহ তাঁর পিতা মাতাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুক ৷ আমীন

কুরআনের ময়দানে বুলবুলি

“””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী- তমসাবৃত গগনে প্রদীপ্ত সূর্যের বিকশিত নাম ৷
১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস- এর মাত্র দুই মাস সাতদিন পর ১৯৭২ সনের ২২শে ফেব্রুয়ারি আল্লামা সাঈদী তাঁর নিজ জেলা পিরোজপুর সরকারি স্কুলের মাঠে বিশাল তাফসীর মাহফিলে বলিষ্ঠ কন্ঠে বক্তব্য পেশ করেন ৷
১৯৭৩ সনে রাজধানী ঢাকায় প্রথম বারের মতো ইসলামী পুষ্প কাননের বিরল ফুল আল্লামা সাঈদীর সুবাসে সুবাসিত হয় ৷ আরমানীটোলার বিশাল ময়দানে আল্লামা সাঈদীর জন্য সময় বরাদ্ধ ছিল মাত্র ১৫ মিনিট ৷ পবিত্র কুরআনের তাফসীর ছড়িয়ে পড়লো সাঈদীর কন্ঠে জান্নাতী সৌরভে ৷
অসংখ্য শ্রোতা নীরব নিস্তব্ধ , কারো মনে সামান্যতম চঞ্চলতা নেই ৷ সবাই এক দৃষ্টে অপলক নেত্রে তাকিয়ে রয়েছে আল কুরআনের বিপ্লবী সিপাহসালার আল্লামা সাঈদীর দিকে ৷ মাহফিল পরিচালক ১৫ মিনিট অতিবাহিত হতেই প্রস্তুতি নিলেন বক্তৃতা শেষ করার জন্য আল্লামা সাঈদীর প্রতি ইশারা করবেন ৷ সতর্ক শ্রোতাগণ তা অনুভব করে দাবি জানালো তারা সাঈদীর কন্ঠে আরো আলোচনা শুনতে চায় ৷ শ্রোতাদের দাবীর মুখে আল্লামা সাঈদী একটানা আড়াই ঘন্টা কুরআন থেকে আলোচনা করেন ৷ তবুও শ্রোতাদের মনে অতৃপ্তি রয়ে গেল- পুনরায় তাঁর মহামূল্যবান বক্তৃতা শোনার তীব্র আকাংখা তাদের হ্নদয়ে জেগে উঠলো ৷
সেই ব্যক্তি আজ ছয় বৎসর থেকে কাফিরদের হাতে বন্দী ৷ কুরআনের এই প্রেমিকের মুখে তাফসীর শোনা থেকে জাতি আজ বঞ্চিত ৷
কুরআনের খাদিমদের সাথে যারা বেয়াদবি করে তাদের পরিনতি হবে ফিরাউন, নমরুদ, আবু জেহেলের মত ৷ এটাই চিরন্তন সত্য কথা ৷

কে রোধিবে এই জোয়ারের টান গগনে যখন উঠেছে চাঁদঃ

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশ ও জাতি চরম এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে ৷ঠিক সেই মুহুর্তে জাতি অনুভব করলো যুদ্ধ চলাকালীন যে ভারত মিত্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল, সে ভারত এখন দস্যু তস্করের ভূমিকায় অত্যন্ত নগ্নভাবে বীর প্রসবিনী বাংলার মাটিতে অবতীর্ণ হয়েছে ৷
গোটা দেশের মূল্যবান সামগ্রী তারা লুন্ঠন করে সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাচ্ছে ৷ সচেতন জনতা এই আত্মঘাতী দৃশ্য অবলোকন করে চমকে উঠলো, গোটা চেহারা জুরে পরিলক্ষিত হলো চাপা ক্ষোভ ৷
বাংলার দামাল যুবক ঈমানদার মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে নীরব ভুমিকা পালন করা সম্ভব হলো না ৷ তারা অনুভব করলো, ভারতীয় ব্রাক্ষণ্যবাদের গতিপথে অর্গল তুলে দিতে সক্ষম কেবলমাত্র মহান আল্লাহর কুরআন ৷ ইসলামী চেতনায় জাগ্রত হ্নদয় পাবনার ঈমানদার মুক্তিযোদ্ধারা সিদ্ধান্ত নিলো, পবিত্র কুরআনের আলো তারা প্রজ্জিলিত করবে ৷ পাবনার স্টেডিয়ামে বিশাল বিস্তীর্ণ অঙনে তারা সাতদিন ব্যাপী তাফসীর মাহফিল করবে আর এই মাহফিলে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করবেন মুসলমানের প্রাণ পুরুষ ইসলামের সিংহ আল্লামা সাঈদী ৷
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাথে সাথে আবু লাহাব আর আবু জেহেলের প্রেতাত্মারা সক্রিয় হয়ে উঠলো ৷ প্রবল বাধা সৃষ্টি করলো তারা ৷ কুরআনের প্রসার প্রচার তারা কোনক্রমেই অনুষ্ঠিত হতে দেবেনা বলে হুংকার ছাড়লো ৷
কুরআনের প্রেমিক পাবনার মুক্তিযোদ্ধাগণ অস্ত্র হাতে রুখে দাড়ালেন ৷ প্রয়োজনে বুকের শেষ রক্ত বিন্দু ঢেলে দিয়ে হলেও আল্লাহর কুরআনের মাহফিল বাস্তবায়ন করবো ৷
তাঁদের শক্ত অবস্থানে নাস্তিক- মুরতাদ আর কমিউনিস্টদের ভীত কাঁপিয়ে দিলো ৷ অবশেষে তারা তাদের চির পরিচিত ষড়যন্ত্রের পথই বেছে নিলো ৷ গুপ্ত ঘাতক লেলিয়ে দিয়ে আল্লামা সাঈদীকে হত্যা করে কুরআনের মাহফিল বন্ধ করার ঘৃণ্য চক্রান্ত করা হলো ৷ কুরআন প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের অগোচরে রইলো না বাতিলের অশুভ চক্রান্তের কথা ৷ তাঁরা দুর্জয় প্রতিরোধ গড়ে তুললো ৷ আল্লামা সাঈদীকে যে পথে তাফসীরের মঞ্চে নিয়ে আসা হবে, সে পথের দু’ ধারে অস্ত্র সজ্জিত মুক্তিযোদ্ধার দল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেলেন ৷ পাবনার অমুসলিম এসপির বাড়ির দিকে মেশিনগান স্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধাগণ অবস্থান করে স্পষ্ট জানিয়ে দিলো, ‘ আল্লামা সাঈদীর শরীরে কাঁটার আঁচড় দেওয়ার চেষ্টা করা হলে মুহুর্তে ষড়যন্ত্রের হোতা এসপির বাড়ি ধুলিসাৎ করে দেওয়া হবে ৷
মুসলমানদের প্রাণ পুরুষ আল্লামা সাঈদীকে মুক্তিযোদ্ধাগণ কুরআনের মাহফিলের মঞ্চের দিকে নিয়ে আসছেন ৷ সামনে শতশত হোন্ডা পথের দুইপাশে দুই সারিতে বিভক্ত হয়ে ধীর গতিতে এগিয়ে আসছেন ৷ প্রতিটি হোন্ডার চালকের পিছনে আরেকজন মোজাহিদ রয়েছেন ৷ কয়েকজনের হাতে বিউগল, বিউগল বাজিয়ে তাঁরা সংকেত দিচ্ছেন, ‘ পবিত্র কুরআনের সৈনিক আল্লামা সাঈদী আসছেন ৷’
মুক্তিযোদ্ধাদের হোন্ডা মিছিল, তাদের পিছনের গাড়িতেই অবস্থান করছেন মুসলমানদের নয়নমণি আল্লামা সাঈদী ৷ তাঁর পিছনে রয়েছে বিশাল গাড়ি বহর ৷ অস্ত্র হাতে প্রহরারত পথের দুই পাশে দেশ ও জাতির অতন্দ্র প্রহরী মুক্তিযোদ্ধার দল ৷ তাদের পিছনে অবস্থান গ্রহণ করেছেন বাংলার অগনিত বিপ্লবী জনতা ৷ দৃষ্টি তাদের খোঁজে ফিরছে আকাংখিত মেহমানকে ৷ তাঁকে একনজর দেখার জন্য সমবেত জনতার অগনিত দৃষ্টি থেকে ঝড়ে পড়ছে অদম্য ব্যাকুলতা ৷ গাড়ি তাঁকে বহন করে ধীর গতিতে মঞ্চের কাছে পৌছতেই মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের অস্ত্র গর্জে উঠলো ৷ একুশবার তোপধ্বনি দিয়ে আল্লামা সাঈদীকে বরণ করে নেওয়া হলো ৷ সেই সাথে তোপধ্বনির মাধ্যমে কুরআন বিরোধীদের জানিয়ে দেওয়া হলো, ‘ বিশ্ব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর খালিদ ঘুমিয়ে পড়লেও তাঁর অস্ত্র ঘুমায় নি- এ অস্ত্র ঘুমাবার নয়- মুসলমানদের অস্ত্র কখনো ঘুমায় না ৷

আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে অপবাদঃ

“””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
১৯৭১ সালের পর থেকে আল্লামা সাঈদীর জনপ্রিয়তা দিনদিন বৃদ্ধি পেতে থাকলো ৷ প্রতিটি মানুষের কর্ণকুহরে পৌছে গেল একটি প্রিয় নাম, ‘আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী ৷ ‘
কুরআন বিরোধী শক্তি আতংকিত হয়ে উঠলো ৷ শুরু করলো সাঈদীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ৷ নাস্তিকদের দল সর্বপ্রথম তাঁর দিকে যে অস্ত্র ছুড়লো তাহলো, ‘ সাঈদী প্রচুর অর্থ না পেলে কোনো মাহফিল করেন না ৷’ আল্লামা সাঈদী এই অপবাদের তীব্র প্রতিবাদ করে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করলেন,’ গোটা বাংলাদেশে কোথাও এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই যে, তিনি চুক্তি করে মাহফিল করেছেন বা টাকা চেয়ে নিয়েছেন ৷ ‘ আজ পর্যন্ত কারো সাহস হয়নি তাঁর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা ৷
তিনি টাকার গোলাম নন- টাকার পেছনে সাঈদী ছুটে না, বরং তাঁর পেছনেই অর্থ সম্পদের পাহাড় ছুটে বেড়ায় ৷ অর্থের নেশা যদি তাঁর থাকতো তাহলে তিনি কন্টকাকীর্ণ পথে পা না বাড়িয়ে কুসুমাস্তীর্ণ পথে পা বাড়িয়ে দিতেন ৷ তিনি যদি পীর-মুরিদী শুরু করতেন, তাহলে তাঁর পায়ের কাছে যে অর্থের স্তুব জমা হতো, তা বহন করতে ট্রাকের প্রয়োজন হতো ৷
আল্লামা সাঈদীকে বারবার মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব দেয়া হইছিল ৷ তাঁর যদি অর্থের নেশা থাকতো, তাহলে তিনি মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করে ক্ষমতার স্বাদ অস্বাদন করে অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়তে পারতেন ৷
নাস্তিকদের এই অস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো ৷ এবার তারা প্রচার করলো, ‘ সাঈদী তাফসীর মাহফিলে যা বলে থাকেন, তা তিনি যেমন পালন করেন না, তেমনি তাঁর পরিবারেও ইসলামের নাম-গন্ধ নেই ৷ তাঁর মেয়েটি ঢাকা ভার্সিটিতে পর্দাহীনভাবে ইউরোপীয় স্টাইলে চলাফেরা করে ৷ এভাবে তাঁকে জনবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চললো ৷ কিন্তু তাদের এই অপপ্রচারেও হালে পানি পেলো না ৷ গোটা জাতি অভাব বিষ্ময়ে দেখলো আল্লামা সাঈদীর কোনো কন্যা সন্তানই নেই- চারজন পুত্র সন্তান মাত্র ৷ আর তাঁদের চরিত্র কেমন, তা বিশ্বের কারো অজানা নয় ৷ তারপর বলা হলো তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছেন, নারী ধর্ষণ করেছেন এবং এই সব অভিযোগে আজ তাঁকে আমৃত্যু কারাদন্ড দিয়েছে আওয়ামী সরকার ৷ কাফিরদের স্মরণ রাখা উচিত, সবার অগোচরে নীরবে নিভৃতে থেকে মহান আল্লাহ সব কিছুই অবলোকন করছেন ৷ ঈর্ষার অন্ধ ব্যক্তিদের ওপরে যথা সময়ে নেমে আসবে তাঁর নির্মম নিষ্ঠুর দন্ড ৷

বিশ্বনবীর হিজরতের রাত্রের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো চাপাইনবাবগঞ্জের মাটিতেঃ

“”””””””””””””””””””“”””””””””””””””””””””””””””””””””“””””””
১৯৭১ সনের পরে দেশের শাসন ক্ষমতায় যে সরকার অধিষ্ঠিত হয়েছিল, তারা এদেশ থেকে ইসলামের শেষচিহ্ন মুছে ফেলার যাবতীয় কর্মসূচী গ্রহণ করেছিল ৷ ইসলামের পক্ষে যেসব কন্ঠ ময়দানে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতো, তাদেরকে পাঠানো হয়েছিলো কারান্তরালে ৷ সে সময় একটিমাত্র কন্ঠই ইসলামের পক্ষে সোচ্চার ছিল- আর সে কন্ঠটি ছিল আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর ৷
তাই তাঁকে হত্যা করার জঘন্য ষড়যন্ত্র করা হলো ৷ ইসলামের দুষমনেরা এই নিকৃষ্ট কাজের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিকে বেছে নিলো ৷ তারা সেখানে একটি কলেজের প্রিন্সিপালের মাধ্যমে আল্লামা সাঈদকে তাফসীরের দাওয়াত দিলো ৷ কুরআনে সৈনিক আল্লামা সাঈদী সহজ সরল মনে তাদের দাওয়াত কবুল করে মরহুম বখস খানকে সাথে নিয়ে নির্দিষ্ট তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তাফসীর মাহফিলে উপস্থিত হলেন ৷
অগনিত জনতা আল্লামা সাঈদীর কন্ঠে পবিত্র কুরআনের তাফসীর শুনলেন ৷ মাহফিল শেষে বিশ্বাসঘাতকদের দল তাঁকে থাকতে দিল সদ্য নির্মিত একটি নির্জন বাড়িতে ৷ যে বাড়িটির কোন একটি রুমেও তখন পর্যন্ত দরজা জানালা লাগানো হয় নি ৷ আল্লামা সাঈদী অপেক্ষা করছেন, তাঁকে আহারের ব্যবস্থা করবেন, আহার করে তিনি ঘুমিয়ে পড়বেন ৷ রাত ক্রমশ গভীর থেকে গভীরতর হয়ে গেল ৷ আহারের ব্যবস্থা তো দূরের কথা, দাওয়াত দাতাগণ তাঁর সাথে সৌজন্যতা প্রদর্শন করতে এলো না ৷ কাফিররা তখন আল্লামা সাঈদীর উপর হামলা করে তাঁকে হত্যা করার যাবতীয় ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করেছে ৷ তাদের এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের কথা মহান আল্লাহ তায়ালার অদৃশ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কতিপয় ঈমানদারের গোচরীভূত হলো ৷ তাঁরা দ্রুত এসে আল্লামা সাঈদীকে বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে দিলেন ৷
নেই মৃত্যু ভয় আর নৈরাশ্যের কোন চিহ্ন আল্লাহর সৈনিক আল্লামা সাঈদীর সদাহাস্যোজ্জ্বল চেহারায় ৷ আল্লার সিদ্ধান্তের প্রতি রয়েছে তাঁর অটল বিশ্বাস ৷ আগত ঈমানদারগণ বারবার অনুরোধ করেছেন আল্লামা সাঈদীকে আত্মগোপন করার জন্য ৷ কিন্তু তিনি তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন ৷ অবশেষে তারা একপ্রকার জোর করেই তাঁকে সেই বাড়ি থেকে সরিয়ে নিলেন ৷ তারা বললেন আপনার অবস্থানস্থলে আমরা থাকবো ৷ বিশ্বাসঘাতকদের দল আপনাকে না পেয়ে আমাদের উপর আক্রমণ করবে কিন্তু এতে আমাদের কোন আফসোস নেই ৷ বর্তমান সমাজে আপনার মত কুরআনের সৈনিকের বড় প্রয়োজন ৷ আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন ৷
বিশ্বনবীর জীবনে হিজরত কালিন যে ঘটনা ঘটেছিলো, চাপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে সেটার যেন পুনরাবৃত্তি ঘটলো ৷ রাসুলকে হত্যা করার জন্য কাফিররা যখন তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছিলো ৷ আল্লাহর নির্দেশে নবী করীম সাঃ হযরত আলী রাঃ তাঁর বিছানায় ঘুমিয়ে থাকতে বললেন ৷ হযরত আলী জানতেন, কাফিররা রাসুলকে না পেয়ে তাকে হত্যা করতে পারে কিন্তু এই নির্মম পরিনতির কথা জেনেও তিনি আল্লাহর নবী শয্যায় শয়ন করেছিলেন ৷
এরই নাম নেতার প্রতি মমতা, এর নামই নেতার নির্দেশ পালন ৷
মাওলানা খোদা বখস ( রহঃ) জানতেন, আল্লামা সাঈদী হলেন বাংলার মুসলমানদের কান্ডারী ৷ তিনি অনুভব করলেন, ইসলামের শত্ৰুদের দল এতক্ষণ স্পষ্ট উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেল ৷ তারা হন্যে কুকুরের মতো আল্লামা সাঈদীকে খুঁজে ফিরছে ৷
সুতরাং এই পরিস্থিতিতে ইসলাম যে নির্দেশ দিয়েছে, সেই নির্দেশ বর্তমানে অনুসরণ করতে হবে ৷ তিনি আল্লামা সাঈদীকে বাধ্য করলেন পোষাক পরিবর্তন করতে ৷ মাথা থেকে টুপি ও গায়ে থেকে জামা খুলে নিলেন ৷ অবশিষ্ট রইলো গায়ে গেঞ্জি আর পরনে সাধারণ একটি লুঙ্গি ৷ আল্লাহর দ্বীনের এই সৈনিকের চিরপরিচিত চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেলে ৷ এ অবস্থায় তাঁকে এখন দেখলে কেউ চিনতে পারবে না ৷
গভীর রাত- চারদিকে অন্ধকার থমথম করছে ৷ মাথার ওপরে তারা জ্বলা আকাশ ৷ শ্বাপদ শংকুল অপরিচিত পায়ে চলা সংকীর্ণ মেটা পথ ৷ আল্লাহর দ্বীনের দুই মুজাহিদ অজানার উদ্দেশ্যে ক্ষুধার্ত পেটে এগিয়ে যাচ্ছেন ৷ অনাহার ক্লিষ্ট ক্লান্ত শ্রান্ত দেহ পা আর সামনের দিকে অগ্রসর হতে চায় না ৷ পেছনে বিশ্বাসঘাতক হায়েনার দল তাদেরকে অনুসন্ধান করছে- চোখে তাদের রক্তের ঘৃণ্য নেশা ৷
ক্লান্ত পা দুটোকে তাঁরা টেনে টেনে সামনের অপরিচিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন ৷ কঠিন ঢিলা আর কাঁটার আঘাত পা দুটো ক্ষত- বিক্ষত রক্তাক্ত হয়ে যাচেছ ৷ গোটা রাত তাঁরা চড়াই উৎরাই অতিক্রম করে অপরিচিত এক পল্লীতে এসে যখন উপনিত হলেন- পূর্ব গগনে তখন পূর্বাশার স্পষ্ট ইশারা ৷ বনানী ঘেরা নিভৃত সেই পল্লীর এক বাড়ির কর্তার কাছে মাওলানা খোদা বখস আশ্রয় প্রার্থনা করলেন ৷ মহান আল্লাহ সেখানে তাদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলেন ৷
আল্লাহ তায়ালা সেদিন এভাবেই তাঁর কোরআনের সৈনিক আল্লামা সাঈদীকে হেফাজত করেছিলেন ৷ ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন বাম- রামপন্থী, নাস্তিক- মুরতাদ আর কমিউনিস্টদের জঘন্য ষড়যন্ত্র ৷

ওহুদের যুদ্ধের যেনো পুনরাবৃত্তি ঘটলো পাবনা শহরে ৷

“””””””””””””””””””””””””””””””””“””””“”””””””””
১৯৭৪ সন ৷ দেশ জুড়ে ধর্মনিরপেক্ষবাদের তান্ডব চলছে ৷ ধর্মনিরপেক্ষ সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে আল্লামা সাঈদীকে গ্রেফতার করে তাঁর কন্ঠ স্তব্ধ করবে, অপরদিকে নাস্তিকরা সুযোগ খুঁজছে তাঁকে হত্যা করার ৷ চারদিকে নাগিনীরা বিষ নিঃশ্বাস ফেলছে – আল্লামা সাঈদী তা অনুভব করছেন ৷ যেকোন সময় তাকে হত্যা করা হতে পারে, এটা তাঁর অজানা নয় ৷
চরম এই পরিবেশে পাবনা শহরের অদূরে পুষ্পপাড়া আলিয়া মাদ্রাসায় তাফসীর মাহফিলের আয়োজন করা হলো ৷ সেখানে প্রধান অথিতি থাকবেন আল্লামা সাঈদী ৷ একদিকে মহান আল্লাহর কুরআন প্রেমিক বান্দারা তাফসীরের আয়োজন করছেন, অপরদিকে ধর্মনিরপেক্ষ ঘাতকদের দল আল্লামা সাঈদীকে হত্যা করার ঘৃণ্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে ৷
যথা সময় তাফসীর মাহফিল অনুষ্ঠিত হলো ৷ অগনিত মানুষের ঢল নামলো তাফসীর মাহফিলে ৷ সিন্ধান্ত হলো, মাহফিল শেষ করে করে আল্লামা সাঈদী পাবনা শহরে চলে যাবেন এবং সেখানে রাত যাপন করবেন ৷ কিন্তু মাহফিল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তিনি আহার এখানে করলেন এবং মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিসের কক্ষে আহারে বসলেন ৷ তাঁর সাথে মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস নুরুল্লাহ সাহেবসহ আরো অনেকেই রয়েছেন ৷ কিছু লোক গেলেন গাড়ি আনতে ৷ গাড়ি আসলেই তিনি পাবনা শহরের দিকে রওয়ানা দিবেন ৷
আহার শেষে হতেই হঠাত বিদ্যুৎ চলে গেলো ৷ চারদিকে নিকষ অন্ধকার নেমে এলো ৷ ইতিমধ্যেই আল্লামা সাঈদীকে জানানো হলো গাড়ি এসে গেছে ৷ তিনি অন্ধকারেই অনুমানে দরজার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন আর ধর্মহীন ঘাতকদের দল তাঁকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে দরজার কাছে এগিয়ে আসছে ৷ চারদিকে গাঢ় অন্ধকার ৷ নিজের শরীর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না ৷ আল্লামা সাঈদী অনুভব করলেন, কয়েকজন লোক তাঁকে ধাক্কা দিয়েই দরজার দিকে এগুচ্ছে ৷ তারপর অনুভব করলেন, তাঁর পাশ থেকেই গুলি ছোড়া হচ্ছে ৷ তিনি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে গাড়ীতে উঠলেন এবং পাবনায় চলে গেলেন ৷
পূর্ব থেকেই ঘাতকদের দল লক্ষ্য করছিলো যে, আল্লামা সাঈদী কোথায় বসে আহার করছেন এবং সেদিকেই তারা মারণাস্ত্রের লক্ষ্য স্থির করছিলো ৷ আল্লামা সাঈদী যে স্থানে বসে আহার করেছিলেন তার পাশেই ছিলেন মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা নুরুল্লাহ সাহেব ৷
ঘাতকদের ছুড়ে দেওয়া এক ঝাঁক তপ্ত বুলেট গিয়ে তাঁকে ঝাঁঝরা করে ফেলল ৷ ঘটনার স্থলের শাহাদাত বরণ করলেন তিনি ৷
ওদিকে সারা পাবনা শহরে সংবাদ ছড়িয়ে পড়লো যে, আল্লামা সাঈদী আর নেই ৷
পাবনা শহরে যেন কারবালার মাতম শুরু হলো ৷ নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধ সবাই রাস্তায় নেমে এলো ৷ ওহুদের ময়দানে আল্লাহর রাসুল নিহত হয়েছেন, কাফিরদের ছড়িয়ে দেওয়া এই মিথ্যা সংবাদে মদীনায় যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটলো পাবনা শহরে ৷ সারা শহর স্থবির অচল হয়ে গেল ৷ অগনিত মানুষ যেন ক্রোধে ফেটে পড়তে চাইছে ৷
মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য সচেতন মহল মাইকের মাধ্যমে সারা শহরে জানিয়ে দিলেন যে, আল্লামা সাঈদী জীবিত আছেন এবং ভালোই আছেন ৷ মাইকে ঘোষকের মুখ থেকে এই শুভ সংবাদ জানার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হলো ৷
মহান আল্লাহ তাঁর কুরআনের এই খাদিমকে এভাবেই সেদিন মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন ৷

রাসুল সাঃ এর তায়েফ সফরের যেনো পুনরাবৃত্তি ঘটলো বীর চট্টলায় ৷

“”””””””””””””””””””””””””””””””“””””””””””””””””””
ইসলামের শত্রুরা এমন কোন পথ অবশিষ্ট রাখেনি, যে পথে এগিয়ে গেলে তারা আল্লামা সাঈদীর কন্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করতে সক্ষম হবে ৷ কিন্তু সবার উপরে যে আল্লাহ আছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের যাবতীয় বেড়াজাল ছিন্ন করে তাঁকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, এটাই ছিল তাঁর সিদ্ধান্ত ৷
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার কতিপয় মুসলমান কুরআন তাফসীর মাহফিলের আয়োজন করে আল্লামা সাঈদীকে প্রধান মেহমান হিসেবে দাওয়াত দেন ৷ কিন্তু আবু জেহেলের উত্তরসুরীরা বসে থাকেনি ৷ তারা জনগণের মধ্যে প্রচার করে যে, আল্লামা সাঈদী কুরআন হাদীসের অপব্যাখ্যা দেন এবং তিনি বেদআতী ৷ সুতরাং তাঁকে হত্যা করা সওয়াবের কাজ ৷
তাদের ভিত্তিহীন প্রচারে জনগণ বিভ্রান্ত হয় ৷ তিনি আসার পথে রাস্তাই তারা তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় ৷ ওদিকে আল্লামা সাঈদীও নির্দিষ্ট দিনে তাফসীর মাহফিলের দিকে যাত্রা করেন ৷
কুরআন প্রেমিক জনতা নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে তাঁরা পথিমধ্যে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি বাড়িতে উঠিয়ে নেন ৷
আল্লাহর কুরআনের সৈনিককে হত্যা করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে, এই ঘৃণ্য দৃশ্য সেদিনের সূর্যও বুঝি দেখতে চায়নি ৷ গোটা আকাশ জুড়ে মেঘ ছেয়ে গিয়েছিল,বাতিলদের এই ঘৃণ্য তৎপরতায় মেঘমালাও নিজেকে স্থির রাখতে পারেনি ৷ ফোটায় ফোটায় অশ্রু ঝরিয়ে ছিল সেদিনের বিস্তীর্ণ আকাশ জোড়া মেঘমালা ৷ মুহুর্তেই আল্লাহর দুশমনেরা সেই বাড়িটিকে অস্ত্র হাতে ঘিরে ফেলল, যে বাড়িতে অবস্থান করছেন আল্লামা সাঈদী ৷
আল্লামা সাঈদী ওজু করে প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন, তাঁর চির আকাংখিত শাহাদাতের, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ভিন্ন ৷ কোন একজন ব্যক্তি এই ভয়াবহ ঘটনার সংবাদ স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে পৌঁছে দিয়েছিল ৷ সেখান থেকে সংবাদ চলে যায় চট্টগ্রাম শহরে ৷ চট্টগ্রাম শহরের একজন কুরআন প্রেমিক উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার আল্লামা সাঈদীকে খুব ভালোবাসতেন ৷ তিনি তাঁকে ‘ আব্বা ‘ বলে সম্বোধন করতেন ৷ তিনি দুই ট্রাক পুলিশ নিয়ে উল্কার গতিতে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটলেন ৷ দ্রুত তিনি পৌঁছে গেলেন আল্লামা সাঈদীর কাছে ৷ তিনি তাঁর অধিনস্থ বাহিনীকে আদেশ দিলেন, ‘ গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ো এবং যাকে যেখানে পাবে পিটিয়ে হাড় হাড্ডি ভেঙ্গে দাও ৷ পুলিশ অফিসারের আদেশ আল্লামা সাঈদীর কর্ণে প্রবেশ করা মাত্রই তিনি প্রবল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেন ৷ তিনি বললেন, ‘ আমার জন্য আপনি এই এলাকার জনগণের উপর নির্যাতন করবেন না প্লিজ ৷ ওরা বুঝতে পারেনি, ওরা ইসলামের দুশমনদের ষড়যন্ত্রের শিকার ৷ আল্লাহর দিকে তাকিয়ে ওদেরকে ক্ষমা করে দিন ৷ ক্রদ্ধ পুলিশ তাঁর অনুরোধে মত পরিবর্তন করে অধিনস্থদের আদেশ দিলেন, ‘ ঠিক আছে, গণপিটুনি দেওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু দোষীদের খুঁজে বের করে পিটিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দাও ৷’
চমকে উঠলেন আল্লামা সাঈদী – ভুলে গেলেন নাস্তিকদের নিষ্ঠুরতার কথা ৷ তিনি করুণ কন্ঠে আবেদন জানালেন, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, এই লোকগুলোর একটি পশমের ক্ষতিও আপনি করবেন না ৷ বরং আপনি ওদেরকে কুরআনের কথা শোনার ব্যবস্থা করে দিন ৷ পুলিশ অফিসার এবার নমনীয় হলেন, তিনি তাফসীর মাহফিলের আয়োজন করলেন ৷ আল্লামা সাঈদী পবিত্র কুরআন থেকে তাফসীর শুরু করলেন ৷
আল্লামা সাঈদীকে হত্যার নেশায় যাদের চোখগুলো ক্ষণিক আগে অগ্নি গোলকের মতই জ্বলে উঠেছিল, তাঁর কন্ঠ নিঃসৃত পবিত্র কুরআনের বাণী তাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করা মাত্রই সেই চোখ থেকে অনুশোচনার অশ্রু গড়িয়ে পড়লো ৷
আল্লামা সাঈদী বিশ্বনবীর আদর্শের একনিষ্ঠ অনুসারী ৷ বিশ্বনবীকে তায়েফের ময়দানে আঘাতে আঘাতে জর্জরিত করা হয়েছে ৷ তাঁর পবিত্র রক্তধারায় সেই শুষ্ক বালুকা মিশ্রিত মাটি শিক্ত হয়েছে ৷ তিনি জ্ঞান হারা হয়ে পড়েছিলেন কিন্তু তাদেরকে কোন অভিশাপ দেন বরং ফিরেস্তারা এসে তায়েফ ধ্বংস করতে চাইলে তিনি বাধা দিয়ে বললেন, ওদেরকে ধ্বংস করা যাবে না, ওদেরকে ধ্বংস করে দিলে আমি কার কাছে কালেমার দাওয়াত নিয়ে যাবো ! ৷
মক্কা বিজয়ের সময় তিনি মক্কাবাসীদের প্রতি ক্ষমার যে অপূর্ব দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবে ৷
সেই নবীর অনুসারী আল্লামা সাঈদী – প্রেম ভালোবাসায় পরিপূর্ণ তাঁর হ্নদয় ৷ তিনি কি পারেন সেই লোকগুলোর উপর প্রতিশোধ নিতে, যারা না বুঝে তাঁকে হত্যা করার জন্য প্রস্তুত হয়েছিল ৷
তাফসীর মাহফিলের শ্রোতাগণ যখন অনুভব করলো, তাদেরকে আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে ভুল বুঝানো হয়েছে, তখন বেদনা আর অনুশোচনায় তাদের ভেতর কাঁন্নার রোল সৃষ্টি হলো ৷ তাঁরা সেদিন শপথ গ্রহণ করেছিল, যতদিন তারা এই পৃথিবীতে জীবিত থাকবে, ততদিন তারা আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য জান মাল দিয়ে সংগ্রাম করবে ৷ মহান আল্লাহর অসীম রহমতে আজ সেই সাতকানিয়া ইসলামী আন্দোলনের দূর্গে পরিণত হয়েছে ৷

ইমাম ইবনে তাইমিয়া এবং আল্লামা সাঈদী

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
আল্লামা সাঈদী যাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন তাঁদের একজন ইমাম ইবনে তাইমিয়া ৷ আল কুরআনের এই সৈনিককে কারারুদ্ধ করে, তাঁর কাছ থেকে লেখার উপকরণ ছিনিয়ে নিয়েও বাতিল শক্তি তাঁর গতিস্তব্ধ করতে পারেনি ৷ তিনি কয়লা দিয়ে কারা প্রাচীরের গায়ে বাতিলের বিরুদ্ধে মহাসত্যের বাণী লিখতে থাকেন ৷ কয়লা যখন শেষ হয়ে গেল তখন তিনি মহাসত্যের বিপ্লবী বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন উচ্চ কন্ঠে তিলাওয়াত করে ইসলাম বিরোধী শক্তিকে জানিয়ে দেন, ‘দুঃসহ নির্যাতন করে মুমিনদের কন্ঠ স্তব্ধ করা যায় না ৷
এভাবেই ইসলামী আন্দোলনের সিপাহসালার ইবনে তাইমিয়া ( রহঃ) কারাগারে শাহাদাত বরণ করেন ৷
ইবনে তাইমিয়া নামক শহীদি ফুল আল্লামা সাঈদীকে শুধু নয়- ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে শাহাদাতের সৌরভে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মাতোয়ারা করে তুলছে ৷
পৃথিবীতে বাতিল শক্তি নির্যাতন চালিয়ে সত্যকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পেরেছে এমন দৃষ্টান্ত একটিও নেই ৷ বরং বাতিলই নিশ্চিহ্ন হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত অগনিত ৷ এই বিংশ শতাব্দীতেও সত্যের পতাকাবাহীগণ এধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৷ বাতিল শক্তি সত্যের জাগরণে আতংকগ্রস্থ হয়ে আল্লামা মওদূদী, সাইয়েদ কুতুব, মাওলানা আব্দুর রহীম, আব্বাস আলী খাঁন ও বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক গোলাম ( রহঃ) কে কারারুদ্ধ করেও তাঁদের কন্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি ৷
২০১০ সাল থেকে ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠী ভয়াবহ নির্যাতন শুরু করেছে এদেশের ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীদের উপর ৷ নির্যাতনের ফলে ইসলামী আন্দোলন সংকুচিত না হয়ে বরং আরো প্রসারিত হচ্ছে ৷ বাতিল শক্তি আল্লামা সাঈদীকে গ্রেফতার করে তাঁর কন্ঠও স্তব্ধ করে রাখতে ব্যার্থ হয়েছে ৷ লেখনীর সাহায্যে তিনি কারাগারে আবদ্ধ থেকেও সত্যের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার ‘ দায়ী ইলাল্লাহর’ দায়ীত্ব পালন করে যাচ্ছেন ৷
নির্যাতনের লোমহর্ষক তান্ডবের ঘৃণ্য ইতিহাস সৃষ্টি করেও বাতিল বিজয়ী হয়নি- কখনো হবেও না ইনশাল্লাহ ৷

ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
ইতিহাস সাক্ষী, সত্যের বাহককে যারা সহ্য করেনি, তারাই জাহান্নামের যন্ত্রণাময় জীবনকে স্বাগত জানাতে বাধ্য হয়েছে ৷ সত্যের বাহককে যারা বরদাশত করতে পারেনি, ঘৃণা ও লাঞ্ছনার বোঝা মাথায় নিয়ে তাদেরকে এ পৃথিবী ত্যাগ করতে হয়েছে ৷
মিশরের হাছান আল বান্নাকে যারা সহ্য করতে পারেনি, তারা ঘৃণিত জীবন গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে ৷ জামাল উদ্দিন আফগানীকে যারা সহ্য করতে পারেনি, তারা কেউ সম্মানের সাথে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারেনি ৷ বদীউজ্জামান সাঈদ নুরসীকে যারা দুশমন মনে করছে, তারাও অত্যন্ত করুন পরিনতি বরণ করতে বাধ্য হয়েছে ৷ আল্লামা মওদূদী রহঃ কে ফাঁসীর কুঠুরিতে নিয়েও বাতিল তাঁকে মাথানত করাতে ব্যার্থ হয়েছে ৷ অবশেষে বাতিল শক্তিই তাঁর সামনে শির নোয়াতে বাধ্য হয়েছে ৷ আল্লামা সাঈদীর কন্ঠ স্তব্ধ করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মত যারা তাঁকে গ্রেফতার করেছিল, তাদের পিতা শেখ মুজিব লাঞ্ছিত, অপমানিত হয়ে মানুষের অভিশাপ কুড়িয়ে ধ্বসে পড়তে বাধ্য হয়েছে ৷ ইসলামের বিপ্লবী মুজাহিদ আল্লামা সাঈদীর দিকে একটি আঙ্গুল উঁচু করে অশুভ ইংগিত করার অর্থ হলো হাতের আরো কয়েকটি আঙ্গুল অশুভ ইশারাদাতাকে সতর্ক সংকেত দেওয়া ৷ ইসলামী আন্দোলনকে শত্রুদল হিসেবে চিহ্নিত করে যারাই এই মহান আন্দোলনের বিরোধীতা করেছে, তাদেরকে ইতিহাস ক্ষমা করেনি ৷
দ্বিতীয়বারের মত কালের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের দিয়ে কারাগার পরিপূর্ণ করা হলো ৷ ইসলামী আন্দোলনের সিপাহসালার আল্লামা সাঈদীকে গ্রেফতার করে কারাগারে আবদ্ধ করা হলো ৷ বিশ্ব নন্দিত নেতৃবৃন্দের নাগরিকত্ব বাতিল করা হলো ৷ মহান আল্লাহ সেই জালিম যুগের ফিরাউনের পৃথিবীর নাগরিকত্ব বাতিল করে দিলেন ৷ ইতিহাস নির্মম প্রতিশোধ গ্রহণ করলো ৷
আজ আল্লামা সাঈদীকে যারা জেলে বন্দী রেখে তাঁর উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে, ওদেরকেও ইতিহাস ছাড়বে না ৷ ফেরাউন, নমরুদ, আবু জেহেল, ওতবা, শায়বা এবং শেখ মুজিবের মত করুন পরিণতি ভোগ করে তাদেরকেও দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করতে হবে ৷

আল্লামা সাঈদীর প্রথম কারাবরণ

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
২৯ শে জুলাই – ১৯৭৫ সন- ইতিহাসের সেই কালো দিন, যেদিন ইসলামের এই সিপাহ্সালারকে খুলনা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের নির্দেশে পুলিশবাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করে ৷ খুলনা থেকে বন্দী সাঈদীকে ঢাকার রাজারবাগ CID অফিসে নেওয়া হয় ৷ সেখানে যখন তাঁকে হস্তান্তর করা হলো তখন তাঁকে খুলনা থেকে যে পুলিশ দল ঢাকায় নিয়ে এলো তাঁদের হাবিলদার পরম শ্রদ্ধাভরে আল্লামা সাঈদীর হাতে বিশটি টাকা তুলে দিয়ে আবেগ কম্পিত কন্ঠে বললেন, ‘ এটা আমার কষ্টার্জিত উপার্জনের টাকা, আপনি রাখুন প্রয়োজনে কাজে আসতে পারে ৷’
হাবিলদারের আবেগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তিনি তা গ্রহণ করলেন ৷ সিআইডি অফিসে নেওয়া হলো আল্লামা সাঈদীকে, উদ্দেশ্য তাঁকে লাঞ্ছিত অপমানিত করা ৷ কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, যুগে যুগে আল কুরআনের সৈনিকদের প্রতি যারা অসম্মান প্রদর্শন করেছে, তারা কেউ সম্মান নিয়ে দুনিয়া থেকে যেতে পারেনি ৷ আল্লাহর রাসুলকে অসম্মান করার চেষ্টা করেছিল মুনাফিক নেতা আব্দুল্লাহ বিন উবাই ৷ তার পরিনতিও শুভ হয়নি ৷
রাজারবাগ সিআইডি অফিসে একজন ইসলাম বিদ্বেষী অফিসার আল্লামা সাঈদীর দাড়ি, টুপি দেখে কটাক্ষ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিল, যার দায়ী ছিল তৎকালিন ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ৷
ইসলামী সাংস্কৃতির বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য শুনে আল্লামা সাঈদীর কন্ঠচিরে যে হাহাকার বেরিয়ে এসেছিল, তাঁর বুক চিরে যে দীর্ঘ নিঃশ্বাস আকাশ- বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছিল, তা দুলোক ভূলোক ভেদ করে মহান আল্লাহর আরশে গিয়ে পৌছেছিল ৷ অভিশাপের যে ছায়াতলে আওয়ামী সরকার কালযাপন করছিল, সে অভিশাপ তাদের ওপরে ঘূর্ণির বেগে নেমে এলো ৷ আল্লাহ তাঁর ফয়সালা গ্রহণ করলেন ৷ এঘটনার মাত্র সতের দিন পরেই সংঘটিত হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক ১৫ই আগষ্ট ৷
আজও যারা দ্বিতীয় বারের মত আল্লামা সাঈদীকে কারারুদ্ধ করে রেখেছেন ৷ তাদের জন্য আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে ৷

ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অগনিত মানুষ নিহত- আল্লামা সাঈদী সম্পূর্ণ অক্ষতঃ

“””””””””””””””””””””””””“”””””””“””””””””””””””””
বাংলাদেশ রেলওয়ের খুলনা মেইল চুয়াডাঙ্গার কাছে একবার ভয়াবহ দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছিল ৷ আল্লামা সাঈদী সেই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন ৷ প্রথম শ্রেনীর কামরায় তিনি নিজের আসনে বসে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন ৷ হঠাত তাঁর কানে প্রবেশ করলো ভয়ংকর শব্দ আর বিপন্ন মানুষের মরণ আর্তনাদ ৷ প্রচন্ড ঝাকুনি দিয়ে ট্রেনটি থেমে গেল ৷
তিনি ঘটনা জানার জন্য কামরা থেকে বাহিরে এসে দেখলেন তিনি যে কামরায় অবস্থান করছেন, তার সামনের প্রায় সবগুলো কামরা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে রেল লাইনের দুই পাশে পড়ে আছে ৷ অগনিত মানুষ ঘটনার স্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যুর মুখে পতিত হয় ৷ মানুষের হাত, পা, মাথা তথা গোটা শরীর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে এদিক সেদিক পড়ে আছে ৷ অত্যন্ত হ্নদয় বিদারক ভয়াবহ সে দৃশ্য ৷ সাংবাদিকগণ সে সময় আল্লামা সাঈদীর কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ নিয়েছিল ৷ পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়েছিল, ‘ভয়াবহ দুর্ঘটনা-অগনিত নিহত- মাওলানা সাঈদী সম্পূর্ণ অক্ষত’ ৷
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর কুরআনের সৈনিহ আল্লামা সাঈদীকে সেইদিন সম্পূর্ণ অক্ষত রেখেছিলেন ৷
যে আল্লাহ সেইদিন তাঁর এই প্রিয় বান্দাকে হেফাজতে রেখেছিলেন সেই আল্লাহ এখনো আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন ৷
যারা আল্লামা সাঈদীকে শেষ করতে চাইবে তারাই একদিন শেষ হয়ে যাবে ৷ আল্লামা সাঈদীর কিছুই করতে পারবে না ইনশাল্লাহ ৷

মূর্তিপূজা বিরোধী আন্দোলনঃ

“”””””””””””‘””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
১৯৭৮ সনে রাজধানী ঢাকার জিপিওর সামনে ভাস্করের নামে একটি মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছিল ৷ আল্লাহর ব্যাঘ্র আল্লামা সাঈদী এই মূর্তির বিরুদ্ধে তাওহীদি জনতাকে সাথে নিয়ে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলেন ৷ তিনি জনতার বিশাল মিছিল নিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে এই মূর্তি অপসারনের জন্য স্মারক লিপি পেশ করেন ৷ সেই রাতেই সরকার এই অভিশপ্ত মূর্তিটি অপসারনের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয় ৷
✔১৯৮২ সালের ৫ই নভেম্বর হোটেল সোনার গাঁ – এক জংলি রাতে আয়োজন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ৷ যার নাম দেওয়া হয়েছিল হ্যালোইন নাইট ৷ সে রাতে সেখানে মদ পান করা হবে, জোড়ায় জোড়ায় নাচা হবে, যেনা ব্যভিচার করা হবে ৷ তথাকথিত এই উৎসবের বিরুদ্ধে আল্লামা সাঈদী আদালতে মামলা করেন ৷ আদালত সেই অসভ্য রাতের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ৷
✔ধর্মনিরপেক্ষবাদিরা একবার একটি গান রচনা করলো, ‘ কোন কিতাবে লেখা আছে গো হারাম বাজনা গান’ ৷ আল্লামা সাঈদী এই গানটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন ৷ আদালত এই গানটি নিষিদ্ধ ঘোষনা করে ৷
✔১৯৮৬ সনে বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত সপ্তম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে শাহেদ আলী লিখিত ‘জিব্রাইলের ডানা’ শীর্ষক একটি ইসলাম বিরোধী ও শির্ক মূলক গল্প পাঠ্য করা হয় ৷ আল্লামা সাঈদী এ ব্যাপারে তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং গল্পটি পাঠ্য পুস্তক থেকে বাতিল করার আবেদন জানিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ৷ অবশেষে এই গল্পটি বাতিল করা হয় ৷

কেন সাঈদীর এত বিরোধীতা?

“””””””””””””””””””””””””””””””””””””‘”””””””””
যারা আল্লামা সাঈদীর বিরোধীতা করে,তাঁকে রাজাকার বলে গালি দেয়, তারা অধিকাংশই হলো নাস্তিক মুরতাদ আর ভারতীয় উগ্র ব্রাক্ষণ্যবাদের দোসর ৷ পূর্বে এদের পেটের খোরাকের ব্যবস্থা হতো রাশিয়ার টাকায় ৷ রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র পতনের পর এরা ভারত-আমেরিকাসহ ইসলাম বিরোধী শক্তির হাতে হাত মিলিয়ে পেটের খোরাকের ব্যবস্থা করছে ৷
আল্লামা সাঈদী জাতিকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান দান করছেন ৷ ইসলামী জ্ঞানের অলংকারে জাতি সজ্জিত হলে তারা আর মৃত মানুষের কবরে অর্থ দেবে না, দুনিয়া পূজারী পীরদের দরবারে অর্থ ঢালবে না ৷ মাজারে ওরশ হবে না ৷ মানুষ এক আল্লাহর দাসত্ব করবে ৷ ফলে এসব ধর্মব্যাবসায়ীদেরকে কর্মবিমুখ বিলাসী জীবন ত্যাগ করে শ্রম দিয়ে পেটের ভাত যোগাড় করতে হবে ৷
নিজেদের মৃত্যুঘন্টা বাজতে দেখে এই ধর্মব্যাবসায়ীরা নাস্তিক, কমিউনিস্ট, ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদদের সাথে হাত মিলিয়ে আল্লামা সাঈদীকে বলছে রাজাকার ৷ আর সাঈদীর ফাঁসীর দাবিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে লাফালাফি করছে ৷
যারা সাঈদীকে রাজাকার বলে নিজেকে ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা করছে, মুলত তাদের চিন্তার জগত বন্ধক দেওয়া রয়েছে ভারতের ত্রিমূর্তি ভবনে ৷ এরা জাতিয় গাদ্দার, এদেশকে এরা ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করার জন্য তৎপর ৷
আল্লাহ এদের খপ্পর থেকে দেশ, জাতি ও মুসলমানদের রক্ষা করুন ৷ আমীন

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক তাফসীর মাহফিল

“””””””””””””””””“”””””””””“””””””””””””””””””””””
২০০১ সালে চট্টগ্রামে তাফসীর মাহফিলের আয়োজন করে কুরআনের সৈনিকরা ৷ কিন্তু যে প্যারেড ময়দানে তাফসীর হবে, সে ময়দান ধর্মনিরপেক্ষ সন্ত্রাসীরা দখল করে ঘোষণা দেয়, এখানে তাফসীর করতে দেওয়া হবেনা ৷
গোটা চট্টগ্রামের পুলিশবাহিনীকে ইসলাম প্রিয় জনতার পিছনে লেলিয়ে দেওয়া হয় ৷ পুলিশ মসজিদে প্রবেশ করে নামাজরত মুসলামানদের ওপর আক্রমণ করে ৷ ফলে অসংখ্য মুসল্লী আহত হয় ৷ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে ৷ প্রায় শতাধিক মুসল্লীকে গ্রেফতার করা হয় ৷ বিশ্বের মুসলমানগণ প্রচন্ড ক্ষোভে ফেটে পড়ে ৷ চট্টলার বীর জনতা সমুদ্র গর্জনে গর্জে ওঠে ৷ তারাও সরকারকে হুশিয়ার করে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়, কুরআনের মাহফিল অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া নাহলে গোটা চট্টগ্রামকে অচল করে দেওয়া হবে ৷
অবশেষে ইসলাম বিরোধী সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ৷ অতিতের যে কোনো সময়ের তুলনায় ২০০১ সালের তাফসীর মাহফিলে জনসমাগম হয়েছে সবচেয়ে বেশি ৷ দর্শকদের মতে দশ লাখের অধিক জনতা সেই তাফসীরে অংশগ্রহণ করেছিলো ৷ তিনি সেখানে বলিষ্ঠ কন্ঠে মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে তাফসীর পেশ করেছেন ৷ তাঁর হাতে হাতে রেখে এই মাহফিলে আগত ৪০জন অমুসলিম ইসলাম কবুল করে ধন্য হয়েছে ৷

শহীদী ইদগাহে জামায়াত ভারী

“””””””””””””””””””””””””‘””””””'”””””””””””””””””
✔ইসলামী আন্দোলন ও শাহাদাত-কথাটি একই সূত্রে গাঁথা ৷ আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলবে আর সেখানে কেউ শাহাদাত বরণ করবেনা, এ এক অসম্ভব ব্যাপার ৷ এমন অনেক নবীও রয়েছেন, যাঁরা এপথে শাহাদাত বরণ করেছেন ৷ মহান আল্লাহর রাস্তায় প্রাণ দান করার মধ্যে যে কি তৃপ্তি! কি যে এর স্বাদ! তা কোন ভাষার তুলিতে প্রকাশ করা যাবেনা ৷ শুধু হ্নদয়ের সুষমা দিয়ে তা উপলব্ধি করা যায় ৷ শাহাদাতের যে অপূর্ব মাধুরী-তা একমাত্র শহীদ ব্যতিত আর কেউ অনুধাবন করতে পারবে না ৷ সাহাবায়ে কেরামের হ্নদয় সর্বদা শাহাদতের উদগ্র কামনায় থেকেছে ব্যাকুল ৷ তাঁদের চিত্ত থেকেছে চঞ্চল ৷ তাঁদের আত্মা অস্থির হয়ে পড়েছে শাহাদাতের অমীয় সঞ্জীবনী সুধা পানের নেশায় ৷
মুসলমানদের ভেতরে যতদিন শাহাদাতের এই নেশা বিদ্যমান ছিলো, ততদিন পৃথিবীর নেতৃত্ব তাঁদের পদচুম্বন করছে ৷ যখন মুসলমানেরা মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে ভোগের নেশায় উন্মাদ হয়ে সংগ্রামহীন জীবন-যাপন শুরু করেছে, তখন তাদের হাত থেকে নেতৃত্বের আসন ছিনতাই হয়েগেছে ৷ বাতিল শক্তির করুণার দাস হয়ে লাঞ্ছিত জীবন গ্রহণ করতে তারা বাধ্য হয়েছে ৷
★আল্লামা সাঈদী তাফসীর মাহফিলের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে শাহাদাতের সঞ্জীবনী সুধায় উজ্জীবিত করেছেন ৷ ঘুমন্ত মুসলমানদের জাগিয়ে তুলেছেন ৷ তাঁর দাওয়াতের ফলে এদেশে মুসলমানদের এক বিরাট গোষ্ঠী ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন ৷ ইতোমধ্যে অসংখ্য মুসলিম যুবক শাহাদাতের নজরানা পেশ করেছেন ৷ শুধু আল্লামা সাঈদীর ফাঁসীর রায় ঘোষণা হওয়ার পর দুইশতাধিক মুসলমান শাহাদত বরণ করেছেন ৷ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ৷ চোখ হারিয়েছেন, হাত হারিয়েছেন, পা হারিয়েছেন শাহাদাতের উত্তপ্ত ময়দানে ৷
শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা, শহীদ কামারুজ্জামান, শহীদ মুজাহিদ, শহীদ নিজামী ও শহীদ মীর কাশেম আলী শাহাদতবরণ করে বিশ্ববাসীর কাছে যে উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের শহীদ হওয়ার জন্য মাতোয়ারা করে তুলবে ৷
এভাবে মুসলমানদের মধ্যে শাহাদাতের কামনা প্রবল আকারে যখন বৃদ্ধি লাভ করবে, তখন বাতিল শক্তি ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে- প্রতিষ্ঠা লাভ করবে আল কুরআনের রাজ ৷
✔পরিশেষে মহান আল্লাহর দরবারে করজোড়ে মুনাজাত করি, তিনি যেন আমাদেরকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর রাস্তায় সংগ্রাম করে শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য দান করেন ৷ যেন শামিল করে নেন শহীদ আমীর হামজার দলে ৷
আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন

মৃত্যুর মুখোমুখি সংগ্রামী সৈনিকঃ

“””””””””””””””””””””””””””””””””‘”‘”””””””””‘”””””
ইসলামী আন্দোলনের পথ ফুলে সজ্জিত নয়, এ রাস্তা কুসুমাস্তীর্ণ নয় ৷ এ পথের দু’ধারে কেউ ফুলের তোড়া নিয়ে স্বাগত জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না ৷ পথের প্রতিটি বাকে বাকে থাকে নির্মম মৃত্যুর বিষাক্ত ছোবল ৷ এসব কিছু পাড়ি দিয়ে আল কুরআনের সৈনিকদের মনজিলের দিকে এগিয়ে যেতে হয় ৷ এ আন্দোলনের ইতিহাসে এমন একজন ব্যক্তির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি নির্যাতনের মুখোমুখি হন নি- তাঁকে মৃত্যুর সামনে দাঁড়াতে হয়নি ৷ কোন নবীর নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে ৷ কোন নবীকে করাত দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছে ৷ কোন নবীকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে ৷ হযরত হোসাইন রাঃ কেও মস্তক দান করতে হয়েছে ৷
হাসানুল বান্নাকে বাতিল শক্তির তপ্ত বুলেট বুক পেতে গ্রহণ করতে হয়েছে , সাইয়েদ কুতুবকে ফাঁসীর রশি কন্ঠে ধারণ করতে হয়েছে ৷
আল্লামা মওদূদীকে ফাঁসীর কুঠুরিতে প্রবেশ করতে হয়েছে ৷
« আল্লামা সাঈদী আল কুরআনের বিপ্লবী সৈনিক, তিনিও এর ব্যতিক্রম নন ৷ তাঁকেও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে ৷ শেখ মুজিবের অন্ধকার কারাগারে তাঁকে চল্লিশ দিন থাকতে হয়েছে ৷ বর্তমানেও তিনি হাসিনার কারাগারে দিন যাপন করছেন ৷
জীবনে তাঁকেও বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে , এই ব্যাপারে আমরা পূর্বে কয়েকটি উল্লেখ করেছি, সামনের পর্বেও আরো কিছু উল্লেখ করা হবে ইনশাল্লাহ ৷
শুধু সাঈদী নয়, কিয়ামত পর্যন্ত এই পথের পথিক যারাই হবে তাদেরকে এইসব নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হবে ৷ কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের উপর নির্যাতন করে, তাঁদেরকে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে কাফিররা কোনকালেই জয়ী হয়েছে ,বিশ্বের ইতিহাসে এমন কোন নজির নেই ৷ বরঞ্চ তারাই শেষপর্যন্ত আল কুরআনের সৈনিকদের কাছে শির নত করতে বাধ্য হয়েছে , এইরকম নজির অগনিত ৷

মৃত্যুকে সাঈদী ভয় পাইনা, আমি আমার জীবন মহান আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দিয়েছিঃ

“””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””’
১৯৮৯ সনে সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এদেশের বাম-রামপন্থীদের সংগঠন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন তখনকার ৮ দল, ৫ দল, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, ভারতপন্থী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে ময়দানে নামে ৷ সে সময়ের সরকার প্রধান এরশাদ রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আল্লামা সাঈদী ও কুরআন তাফসীর মাহফিলের বিরুদ্বে সরাসরি উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন ৷ আল্লামা সাঈদীকে সে সময় হত্যা করার লক্ষ্যে ইসলামের শত্রুরা গুপ্তঘাতক লেলিয়ে দেয় ৷ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর মাহফিলে বাধা দেয়া হয় ৷ খুলনার বিশাল মাহফিলে বোমা নিক্ষেপ করা হয় ৷ প্রচন্ড শব্দে সে বোমা বিস্ফোরিত হবার সাথে সাথে আল্লামা সাঈদী ব্রাঘ্র গর্জনে ইসলামের শত্রুদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ মৃত্যুকে সাঈদী ভয় পায় না, আমি আমার জীবন মহান আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দিয়েছি ৷ আমার শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকা পর্যন্ত ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবো ৷ বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চি ভুমিও সমাজতন্ত্রী আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের জন্য ছেড়ে দেবনা ইনশাল্লাহ ৷’

মৃত্যু আমার পায়ের ভৃত্য- শহীদী মৃত্যুকে আমরা খুঁজে বেড়াই ৷

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
দিনটি ছিল ১৯৯২ সনের ২৭শে সেপ্টেম্বর ৷ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকার পান্থপথের বিস্তির্ণ অঙ্গনে সীরাতুন্নবী মাহফিলের আয়োজন করে ৷ মাহফিলের প্রধান অতিথি আল্লামা সাঈদী ৷ বাঁধভাঙ্গা স্রোতের মতই কুরআন প্রেমিক অগনিত জনতা মাহফিলের দিকে এগিয়ে আসছে ৷
ইসলামের গণজোয়ার দেখে বাতিল শক্তির কলিজায় আগুন লেগে যায় ৷ তাই আল্লামা সাঈদীকে হত্যা করার পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠলো ৷ মাগরিবের নামাজ আদায় করে আল্লামা সাঈদী কুরআন থেকে তাফসীর শুরু করেন ৷ ঠিক সেই মুহুর্তেই বাতিল শক্তি ছুড়ে দিল মৃত্যুবাণ শিশা নির্মিত তপ্ত বুলেট ৷ মাহফিলের মঞ্চের পাশেই ছিল আনোয়ারা হাসপাতাল ৷ এই হাসপাতালের ছাদ থেকে গুপ্তগাতকদের দল ছুড়ে দিল তপ্ত শিশা ৷ বায়ূবেগে গুলী ছুটে এলো আল্লামা সাঈদীর দিকে ৷ আজন্ম লালিত শহীদী তামান্না বুকে নিয়ে তড়িৎ গতিতে দাঁড়িয়ে গেলেন ৷ শাহাদাত আঙুলী উচ্চে তুলে বাতিল শক্তির প্রতি রণহুংকার দিয়ে বলে উঠলেন, ‘ ― মৃত্যু আমার পায়ের ভৃত্য- শহীদী মৃত্যুকে আমরা খুঁজে বেড়াই ৷ গুলি বোমা ছেড়ে আমাদের কন্ঠকে স্তব্ধ করা যাবেনা ইনশাল্লাহ ৷’
বাতাসে শিশু কেটে সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত শিশার তপ্ত বুলেট একের পর এক ছুটে আসছে আর আল্লাহর পথের নির্ভীক সেনানী আল্লামা সাঈদী মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন ৷
মঞ্চে উপবিষ্ট অনেকেই তাঁকে বসার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন ৷ কিন্তু তিনি বসেন নি ৷ তাঁর মত ব্যক্তিত্ব যদি বাতিলের ভয়ে বসে যান তাহলে দাড়িয়ে থাকবে কে?
ইসলামী আন্দোলনের অগ্নি পুরুষ শতাব্দীর মুজাদ্দীদ আল্লামা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (রহঃ) ও এই পরিস্থিতিতে অবিচল দাঁড়িয়ে ছিলেন ৷ আত্মরক্ষার জন্য তাঁকে বসতে বলা হলে তিনি অকম্পিত কন্ঠে বললেন,’ লাখো জনতার মধ্যে আমি যদি বসে যাই তাহলে দাড়িয়ে থাকবে কে?
এইসব বীর সৈনিকদের কারনেই এই উপমহাদেশে ইসলামের বিস্তৃতি লাভ করেছে ৷
আল্লাহ তায়ালা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদীর দ্বীনি খেদমত গুলো কবুল করে তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং আল্লামা সাঈদী সহ ইসলামী আন্দোলনের নেতা- যারা জীবিত আছেন, তাদের ওপর তাঁর খাস রহমত নাযিল করুন- কাফিরদের মোকাবেলায় তাঁদেরকে বিজয়ী করুন ৷ বাতিলের ষড়যন্ত্র থেকে তাঁদেরকে হেফাজত করুন এবং দান করুন সুস্থ সুন্দর সুদীর্ঘ জীবন ৷ আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন

যতক্ষণ সাঈদীর নাক থেকে নিঃশ্বাস নির্গত হতে থাকবে ততক্ষণ কেউ আমার গতিপথে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে নাঃ

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
১৯৮৯ সালের পহেলা জানুয়ারী থেকে সিলেট আলিয়ার ময়দানে তাফসীর মাহফিলের আয়োজন করা হয় ৷ কিন্তু ফ্যাসীবাদী সরকার মাহফিল বানচাল করার লক্ষ্যে সিলেট হরতালের ডাক দেয় ৷ কুরআনের বিপ্লবী সৈনিক আল্লামা সাঈদীও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন,‘ যতক্ষণ সাঈদীর নাক থেকে নিঃশ্বাস নির্গত হতে থাকবে ততক্ষণ কেউ আমার গতি পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না ইনশাল্লাহ ৷’
নির্দিষ্ট দিনে তিনি প্রিয় বন্ধু আল্লামা কামালউদ্দিন জাফরীকে সাথে নিয়ে বিমান যোগে সিলেট রওয়ানা দেন ৷ সিলেটের আকাশে বিমান প্রবেশ করা মাত্রই স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ওয়্যারলেসের মাধ্যমে আল্লামা সাঈদীকে বিমান থেকে অবতরণ না করার জন্য অনুরোধ জানান ৷
বিমান লেন্ড হওয়া মাত্র ডিসি, এসপি ও পুলিশ সুপার বিমানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ইসলামের সিপাহ্সালারকে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন ৷ তিনি তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিমান থেকে অবতরণ করেন ৷ পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাখন তাঁকে বেষ্টন করে আবার বিমানে উঠিয়ে দেয় ৷ ফলে তিনি ঢাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হন ৷
এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে সিলেটের জনতা সমুদ্র গর্জনে ফেটে পড়ে ৷ গোটা সিলেট বিক্ষোভের কেন্দ্রভূমিতে পরিনত হয় ৷
আল্লামা সাঈদীকে বহনকারী বিমান ঢাকা বিমান বন্দরে অবতরণ করে ৷ তিনি তৎক্ষনাত সড়কপথে পুনরায় সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন ৷ ইসলামের শত্রু ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের যাবতীয় বাধা অতিক্রম করে তিনি সিলেট মাহফিলে উপস্থিত হন ৷ তাঁকে ঘিরে জনতার সাগরে ঊর্মিমালার সৃষ্টি হয় ৷ তাওহীদি জনতার প্রচন্ড প্রতিরোধের মুখে সে দিনও বাতিল শক্তি কুরআনের সৈনিকদের কাছে পরাজিত হতে বাধ্য হয় ৷

কিছু স্মৃতি কিছু কথাঃ

২০০৩ সালে চট্টগ্রাম তাফসীর মাহফিলের কর্তৃপক্ষ আল্লামা সাঈদীকে অনুরোধ জানান, তিনি যেন অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে তাদের মনজিলে কিছু লিখেন ৷ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে চট্টগ্রাম তাফসীর মাহফিল সম্পর্কে আল্লামা সাঈদী ‘কিছু স্মৃতি কিছু কথা‘ নামে মনজিলে তিনি যা লিখেছেন, তা থেকে সংক্ষেপে মাত্র একটি ঘটনা তাঁর ভাষায় আমি এখানে উল্লেখ করছি ৷
✔এরশাদ সরকারের শাসনামলে মাহফিল বন্ধ করার জন্য সরকারীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৷ মাগরিবের নামাজের পরে গাড়িবহর আমাকে নিয়ে চট্টগ্রাম তাফসীর মাহফিলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে ৷ পথিমধ্যে সংবাদ এলো, পথেই আমাকে গ্রেফতার করা হবে ৷ কর্তৃপক্ষ কৌশল করে পথের মাঝে আমাকে একটি অটোরিক্সায় উঠিয়ে দিয়ে মাওলানা কামালউদ্দীন জাফরী সাহেবকে নিয়ে মাহফিলে উপস্থিত হতেই জনতা আমার নামে স্লোগান দেওয়া শুরু করলো ৷ আমি এসেছি মনে করে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করতে এসে দেখে আমি নেই ৷ পুলিশ ছুটলো খোঁজে ৷ ইতিমধ্যেই আমি নিঃশব্দে মাহফিলে এসে উপস্থিত হলাম ৷ মাহফিল চলাকালে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করার ঝুঁকি গ্রহণ করলো না ৷ মাহফিল শেষে কর্তৃপক্ষ আমাকে এবং মাওলানা কামালউদ্দীন জাফরীকে মঞ্চের পিছনে একটি ঘরে নিয়ে গেলেন ৷ কর্তৃপক্ষ জাফরী সাহেবকে বেষ্টন করে গাড়ির দিকে নিয়ে গেলো এবং উপস্থিত জনতা আমার নামে স্লোগান দিলো ৷ আমি তখনো সেই ঘরে, পুলিশ গাড়িবহরের পিছনে ছুটতে থাকলো ৷ এরিমধ্যে কর্তৃপক্ষ আমাকে নিয়ে আমার থাকার স্থানে নিয়ে গেলেন ৷
কর্তৃপক্ষের কৌশলের কারনে প্রশাসন আমাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়ে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানালো, ‘উপরের নির্দেশ, একদিনের জন্য হলেও মাহফিল বন্ধ রাখুন, নইলে আমাদের অসুবিধা হবে ৷’ কর্তৃপক্ষ জানালেন, ‘মাহফিল বন্ধ করলে জনগণ আমাদের ছাড়বে না, আপনারা এ কথাগুলো মাহফিলে আগত জনতাকে বলে দেখুন ৷ ‘
― আওয়ামী শাসনামলেও ১৪৪ ধারা জারী করে মাহফিল বন্ধ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে ৷ বীর চট্টলার ইসলাম প্রিয় তওহীদী জনতা এই অন্যায়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছে ৷ শেষপর্যন্ত সরকার নতি স্বীকার করে আউটার স্টেডিয়ামে মাহফিল করার অনুমতি দিয়েছে ৷ সেখানে স্থান সংকুলান হয়নি ৷ গোটা শহর অচল হয়ে গিয়েছে ৷ এ ধরনের অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে চট্টগ্রাম মাহফিল ঘিরে, যা ব্যক্ত করতে গেলে বিশাল আকারে এক গ্রন্থ রচিত হবে ৷
বাধার সমস্ত পাহাড় ডিঙিয়ে চট্টগ্রামের মাহফিল বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহত তাফসীর মাহফিলে পরিণত হয়েছে – আলহামদুলিল্লাহ ৷ আল্লাহ তায়ালা কুরআনের এই মাহফিলকে আমাদের সকলের জন্য নাযাতের উসিলা বানিয়ে দিন ৷ আমীন- ইয়া রব্বাল আলামীন ৷
,
~ আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহের একান্ত মুখাপেক্ষী
সাঈদী
২৭/০৯/২০০৩

প্রচুর পরিমাণে শেয়ার চাই, যাতে আমার এই কলামটা শাসকগোষ্ঠীর কর্ণকূহোরে পৌছে যায় ৷

“””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী – তমসাবৃত গগনে প্রদিপ সূর্যের একটি বিকশিত নাম, যার আলোয় আলোকিত হচ্ছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ৷ তিনি যুগ যুগ ধরে এদেশে কুরআন ও সুন্নাহর কথা মানুষকে শুনিয়ে আসছেন ৷ পথহারা মানুষদের দেখাচ্ছেন পথের দিশা ৷
বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে যদি একটি সমাবেশের আহবান করে, আর সেই সমাবেশে যোগদান করার জন্য মানুষের পিছনে যদি কোনো অর্থ ব্যয় না করা হয় ,তাহলে হাতে গোনা যাবে কয়জন মানুষ এসেছে এই সমাবেশে ৷
কিন্তু আল্লামা সাঈদী তাফসীর করবেন – এই ঘোষনা দেওয়ার সাথে সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজের কষ্টার্জিত উপার্জনের টাকা ব্যয় করে, জীবনের ঝুঁটি নিয়ে মাহফিলে আসে ৷ কোনো একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এতবড় মাহফিল বাংলার ইতিহাসে কখোনো হয়নি, ভবিষ্যতেও হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই ৷ তাঁর এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের অনুসারীরা তাঁকে আজ পাঁচ বৎসর থেকে বন্ধী করে রেখেছে জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ৷ কিন্তু কাফিরদের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি ৷ আল্লামা সাঈদীর জনপ্রিয়তা দিনদিন বেড়েই চলছে ৷ এখন ১৬ কোটি মানুষের হ্নদয়ে একটিই নাম-আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী ৷
এজন্য এই বিশ্বনন্দিত মুফাস্সীর ও খ্যাতিমান ইসলামী চিন্তাবিদকে এদেশের ইসলাম প্রিয় জনগোষ্ঠী এখন আর একজন মুফাস্সীর হিসেবে দেখতে চায় না ৷ তাঁকে পৃথিবীর এই দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ-বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দেখার জন্য তৃষ্ণার্ত চাতকের মতই প্রহরের পর প্রহর অতিবাহিত করেছে ৷ এখন তারা শাসন দন্ড হাতে সাঈদীকে দেখতে চায় ৷ তিনি শাসন দন্ডের মাধ্যমে আল কুরআনের বিধান ও বিশ্বনবীর জীবন ব্যবস্থা এদেশের বুকে বাস্তবায়ন করবেন, বুকভরা এই আশা নিয়ে জাতি চাতকের মতই প্রহর গুনছে ৷
~ সুতরাং আল্লামা সাঈদীর উপর থেকে সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁকে মুক্তি দিয়ে দেশের শাসনভার জনগনের কাঙ্খিত ব্যক্তি আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর হাতে তুলে দেওয়াই হচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশর ১৬ কোটি মানুষের একান্ত দাবি ৷

প্রকাশিত গ্রন্থাবলি

০১. আল কোরআনের দৃষ্টিতে মহাকাশ ও বিজ্ঞান
০২. আখিরাতের জীবনচিত্র
০৩. আল কোরআনের দৃষ্টিতে ইবাদাতের সঠিক অর্থ
০৪. আল কোরআনের মানদন্ডে সফলতা ও ব্যর্থতা
০৫. আল্লাহ কোথায় আছেন
০৬. আল্লাহ মৃতদেহ নিয়ে কি করবেন
০৭. ঈমানের অগ্নিপরীক্ষা
০৮. কাদিয়ানীরা কেন মুসলিম নয়
০৯. খোলা চিঠি
১০. চরিত্র গঠনে নামাযের অবদান
১১. জান্নাত লাভের সহজ আমল
১২. তাফসীরে সাঈদী আমপারা
১৩. তাফসীরে সাঈদী সূরা আছর
১৪. তাফসীরে সাঈদী সূরা ফাতিহা
১৫. তাফসীরে সাঈদী সূরা লোকমান
১৬. তালিমূল কোরআন
১৭. দেখে এলাম অবিশ্বাসীদের করুন পরিণতি
১৮. দ্বীন বিজয়ের আন্দোলনে ধৈর্য
১৯. ধর্মনিরেপক্ষতা বনাম ধর্মহীনতা।
২০. নীল দরিয়ার দেশে
২১. ফিক্বহুল হাদিস ১ম খন্ড
২২. ফিক্বহুল হাদিস ২য় খন্ড
২৩. বিষয়ভিত্তিক তাফসীরুল কোরআন ১ম খন্ড
২৪. বিষয়ভিত্তিক তাফসীরুল কোরআন ২য় খন্ড
২৫. মহিলা সমাবেশে প্রশ্নের জবাব ১ম খন্ড
২৬. মহিলা সমাবেশে প্রশ্নের জবাব ২য় খন্ড
২৭. মানবতার মুক্তির সনদ আল কোরআন
২৮. রাসূল (সাঃ) এর মোনাজাত
২৯. সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলাম
৩০. সাঈদীর রচনাবলী ১ম
৩১. সাঈদীর রচনাবলী ২য়
৩২. সাঈদীর রচনাবলী ৩য়
৩৩. সীরাতে সাইয়্যেদুল মুরসালীন
৩৪. হাদিসের আলোকে সমাজ জীবন
৩৫. আমি কেন জামায়াতে ইসলামী করি?
৩৬. ইসলামী রাজনীতি কি ও কেন?
৩৭. তাফসীরে আয়াতুল কুরসী
৩৮. সুন্নাতে রাসূল (সাঃ) এর অনুসরনের সঠিক পদ্ধতি
৩৯. ঈমানী জিন্দেগীর সাফল্য ও ব্যর্থতার মানচিত্র
৪০. আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তার দাবি
৪১. শাহাদাত-ই জান্নাত লাভের সর্বোত্তম পথ
৪২. দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ধৈর্য্যের অপরিহার্যতা
৪৩. জিহাদ ঈমানের অপরিহার্য দাবি
৪৪. দ্বীনে হক্বের দাওয়াত না দেয়ার পরিণতি
৪৫. দ্বীন প্রতিষ্ঠায় যুব সমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য
৪৬. বর্তমান পেক্ষাপটে সম্মানীত আলেম সমাজের দ্বায়ীত্ব ও কর্তব্য
৪৭. দুর্ণীতিমুক্ত সমাজ গড়ার মুলনীতি
৪৮. ইসলাম একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান৪৯. ইসলাম-ই ঐক্য ও শান্তির পথ
৫০. ইসলামের রাজনৈতিক বিধান
৫১. ইসলামে ভুমি কৃষি ও শিল্প আইন
৫২. আল্লাহ তা’য়ালার শেখানো দোয়া
৫৩. আখিরাতের জীবন চিত
৫৪. নারী অধিকারের সনদ
৫৫. শিশুর প্রশিক্ষণ পদ্বতি
৫৬. শিশু-কিশোরদের প্রশ্নের জবাব৫৭. বিশ্বনবীর অমীয় বাণী
৫৮. জিয়ারতে বায়তুল্লাহ
৫৯. তা’লিমুল কুরআন
৬০. তা’লিমুল কুরআন
৬১. সৎ মানুষের সন্ধানে
৬২. রিয়াদুল মু’মিনিন
৬৩. বেহেশতের চাবি
৬৪. পরকালের সাথী
৬৫. নাজাতের পথ
৬৬. যুগের দর্পণ
৬৭. বিশ্ব সভ্যতায় নারীর মর্যাদা
৬৮. হাদিসের আলোকে সমাজ জীবন
৬৯. কুরআন দিয়ে কুরআন বুঝুন
৭০. কুরআনের দৃষ্টিতে ইবাদতের সঠিক অর্থ
৭১. বর্তমান বিশ্বে ইসলামী পূর্ণজাগরণের সম্ভাবনা
৭২. নিজ পরিবারবর্গের প্রতি আমার অসিয়্যত
৭৩. মানবতা বিধ্বংসী দু’টি মতবাদ
৭৪. বিশ্ব সভ্যতার মুক্তি কোন পথে?
৭৫. নন্দীত জাতি নিন্দীত গন্তব্যে।